default-image

জাতিসংঘের বিশ্ব যুব প্রতিবেদন অনুসারে ২০৩০ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ দশমিক ১ শতাংশ তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে। বর্তমানে তরুণদের সংখ্যা ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন, যা কিনা বৈশ্বিক জনসংখ্যার ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা হবে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন। (ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ রিপোর্ট ২০২০) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে ছিলেন ৬ কোটি ১৪ লাখ জন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী ছিলেন ২ কোটি ৩ লাখ ৮৬ হাজার। (প্রথম আলো, ৪ নভেম্বর ২০১৬ ) বর্তমানে বাংলাদেশ তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেড়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ জানাচ্ছে, তারুণ্য ও কর্মক্ষম জনশক্তির দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে এগিয়ে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্র। এ অঞ্চলের ৪৫টি দেশের জনসংখ্যাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। (ইউএনডিপি ২০১৭) ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দেশের কর্মক্ষম জনশক্তি ১০ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের কর্মক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে।

বিজ্ঞাপন

আর ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হবে। ফলে ২০৩০ সালে মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষ হবে কর্মক্ষম। বাংলাদেশের তরুণদের নানান সামাজিক সমস্যা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য দূর করতে অ্যাকুমেন ফেলোশিপ ২২ জন তরুণকে ফেলো হিসেবে নির্বাচিত করেছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক-উদ্যোগ বিভিন্ন খাত–সংশ্লিষ্ট ২২ জন তরুণকে ২০২১ সালের অ্যাকুমেন ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

২০০১ সালে অ্যাকুমেন একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। অ্যাকুমেন একাডেমি তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নতুনভাবে লড়াই করতে ভূমিকা রাখছে। তরুণদের নানান সুযোগ বিকাশ করতে সততা, যোগ্যতা ও নৈতিকতাসম্পন্ন তরুণদের সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ দিচ্ছে অ্যাকুমেন একাডেমি। বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত ফেলোরা অ্যাকুমেন একাডেমি ও ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও ফেলো উপদেষ্টাদের কাছ থেকে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাকুমেন একাডেমি ও ফাউন্ডেশন বছরভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে অ্যাকুমেন ফেলো নির্বাচিত করছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো ফেলোদের নির্বাচিত করা হয়েছে।

default-image

অ্যাকুমেন ফেলে হলেন যাঁরা

২০২১ সালে অ্যাকুমেন ফেলে হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সামাজিক প্রতিষ্ঠান আইফার্মারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ ইফাজ, ভালো সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের ব্যবস্থাপক আদনিন মৌরিন, পিএফডিএ-ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সানজিদা রহমান, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইডেন্টিটি ইনক্লুশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসিন আহমেদ ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রেজওয়ানুর রহমান। উদ্ভাবনী গবেষণা ও সৃজনশীলতা কাজের বহুমাত্রিকতার জন্য কাইজেন রিসার্চ স্পেশালিস্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেবজিৎ সাহা, টিচ ফর বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মালিহা ফাওজিয়া, লাইটক্যাসেল পার্টনারসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর জাহেদুল আমিন।

যোগাযোগ ও সামাজিক ভাবনায় নান্দনিক পরিবর্তনের জন্য ওয়েবেবল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা অভিক আলম, কাউন্টার ফটোর অধ্যক্ষ সাইফুল হক।

সামাজিক সমস্যা ও সংকটের উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য ট্র্যাভেলেটস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সাকিয়া হক, শিডিসাইডসের এশিয়ার আঞ্চলিক আন্দোলন সংগঠক সৈয়দা সামারা মোর্তাদা, মেয়ে নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা তৃষিয়া নাশাতারান, কথার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক উমামা জিল্লুর, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালাইয়েন্সের সিইও শাহরিয়ার রহমান, রমণী সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও আরমিন জামান, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট স্বর্ণলতা রায়, ডিজিটাল ইন উইম্যান ম্যানেজিং ডিরেক্টর আছিয়া খালেদা, ড্রিংকওয়েলের সিনিয়র অপারেশনস কো-অর্ডিনেটর মো. সাদ্দাম হোসাইন, এমই সোলশেয়ারের প্রোডাক্ট অ্যান্ড বিজনেসের প্রিন্সিপাল ইশরাত ওয়ারিস ও ঋতুর প্রতিষ্ঠাতা উম্মে শারমিন কবির ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ জানাচ্ছে, যেকোনো সামাজিক পরিবর্তন তা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কিংবা সামাজিক উদ্যোগ হোক না কেন তারুণ্যই পারে ভিন্নমাত্রার উদ্ভাবনী সমাধান করতে। (হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ, মার্চ ২০১৯)
অ্যাকুমেন ফেলো হিসেবে নির্বাচিত রমণীর প্রতিষ্ঠাতা আরমিন জামান জানান, বৈশ্বিক নানান সংকটে তরুণদের ভূমিকা খেয়াল করা যায়। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের তরুণেরা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সংকটে উদ্ভাবনী ভাবনার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। তরুণদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দীর্ঘ মেয়াদের সামাজিক প্রভাব তৈরি করে। যেকোনো সমাজে সংঘবদ্ধ তারুণ্যই পারে সামাজিক সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে প্রগতির বিকাশ করতে।

আরেক নিবন্ধ থেকে জানা যাচ্ছে, বিশ্বের শতকরা ৩ থেকে ৫ জন্য তরুণ ইচ্ছা করলে যেকোনো সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। (হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ, মার্চ ২০১০) সেই তরুণদের সামাজিক কাজে যুক্ত করার প্রচেষ্টায় কাজ করছে অ্যাকুমেন। বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, কলম্বিয়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকাতেও এ ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। এক বছর মেয়াদি ফেলোশিপে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত তরুণেরা অন্য দেশের তরুণদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ারের সুযোগ পাচ্ছেন।

উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা আছিয়া খালেদা বলেন, ‘এই ফেলোশিপের মাধ্যমে দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ আছে, যা আমাদের মতো তরুণদের বিশ্বের অন্যান্য দেশের তরুণের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ করে দেবে।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন