বিজ্ঞাপন

সামগ্রিকভাবে নগদের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এক বছরের একটি প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্যও সরকার একইভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
চুক্তির পরপরই শিক্ষার্থীর জন্মসনদ, অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ সব শিক্ষার্থীর নাম নিবন্ধন হয়। তিনটি তথ্য মিলিয়ে নিবন্ধন করার ফলে কোনো ভুয়া সুবিধাভোগী তালিকায় থাকার সুযোগ ছিল না। ফলে, ভাতা বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নগদ অ্যাকাউন্টে তা চলে যেতে শুরু করে।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যথাযথ কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধন করায় শুরুর দিকে কাজটি অনেক কঠিন হলেও ডেটাবেইস তৈরি হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরের শুরুতে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ হয়ে যাবে। একবার ডেটাবেইসে নাম যুক্ত হলে সেটিকে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যন্ত সরকার ব্যবহার করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বছরের শুরুতে শুধু প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নাম যুক্ত হবে। ফলে, ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

default-image

চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার ফকিরহাটের গৃহিণী মণিকা দেবী তাঁর সন্তানের উপবৃত্তির টাকা পেয়েছেন নগদের মাধ্যমে। ‘সত্যিই ভাবতে পারিনি যে এত সহজে আমার মোবাইলে টাকা চলে আসবে। এ সময়ে এই টাকাটা খুব কাজে এসেছে। উপবৃত্তির টাকা আনতে আর শহরে যেতে হবে না, নগদ তো বাড়ির পাশেই আছে, প্রয়োজনমতো তুলে নিতে পেরেছি, ’ বলেন মণিকা।

বেশ কয়েক বছর আগে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করে। তবে এমএফএসের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ শুরু করে অন্য আরেকটি এমএফএস প্রতিষ্ঠান। তারা ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাশ-আউটের জন্য প্রতি হাজারে সরকারের কাছ থেকে সাড়ে ২১ টাকা নিচ্ছিল। কিন্তু নগদের মাধ্যমে যাওয়ায় এখানে সরকারের খরচ হাজারে সাত টাকা।

উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতা প্রাপ্য হতে পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তি এবং ৮০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। এই যোগ্যতা অর্জন করলেই জনপ্রতি মাসে দেড় শ টাকা হিসাবে এক প্রান্তিকে ৪৫০ টাকা পায় শিক্ষার্থীরা। আর বছর শেষে একবার শিক্ষাসহায়ক উপকরণ কিনতে শিক্ষার্থীরা পায় আরও এক হাজার টাকা করে। এ অর্থ ক্যাশ-আউটের জন্য নগদ থেকে তাঁরা প্রতি হাজারে ১৫ টাকা হিসেবে পেয়েছেন, ফলে অভিভাবকদের বাড়তি কোনো খরচই হয়নি। তা ছাড়া বাড়ির পাশে এজেন্ট থাকায় বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই মিলছে ক্যাশ-আউটের সেবাও।

সিলেটের আম্বরখানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ পাল দীপু বলেন, ‘উপবৃত্তির কাজ করতে গিয়ে শুরুর দিকে নগদকে অনেক কঠিন সময় পাড়ি দিতে আসতে হয়েছে। তবে সময় যত গড়িয়েছে, ততই চমৎকারভাবে সব গুছিয়ে নিয়েছে। আমি মনে করি নগদের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ সরকারের ডিজিটালাইজেশনকে গতিশীল করবে।’

বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কীভাবে সব চোখের পলকেই করে ফেলল নগদ। অথচ এ কাজের জন্য আগে কত পরিশ্রমই না করতে হয়েছে।

উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ ভাতাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মায়েদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠায় নগদ, এর ফলে তৃতীয় পক্ষের কারও পক্ষে লাভবান হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

উপবৃত্তি বিতরণের বিষয়ে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব নিই আমরা। নগদে সব সময়ই গ্রাহককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে, তবে শিক্ষার্থী এবং তার মায়েরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সে কারণে সবচেয়ে যত্নের সঙ্গে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে।’

‘সেবার মাধ্যমে সবার মন জয় করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সহযোগী হতে পেরে আমরা গর্বিত,’ যোগ করেন মিশুক।

বৃত্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন