আমাজনের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি
আমাজনের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসিরয়টার্স

কে এই অ্যান্ডি জ্যাসি

তাঁকে জেফ বেজোসের সেনাপতি বলা যায় নির্দ্বিধায়। আমাজনে যে দুজন নির্বাহীর ওপর নির্ভর করতেন জেফ বেজোস অ্যান্ডি তাঁদের একজন। ‘করতেন’ লেখা হলো, কারণ অপরজন অর্থাৎ জেফ উইলকি এরই মধ্যে আমাজন থেকে অবসর নিয়েছেন। অ্যান্ডি জ্যাসি বর্তমানে আমাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্যতম সফল সে বিভাগ তাঁরই হাতে গড়া।

১৯৯৭ সালে আমাজনে যখন যোগ দিয়েছিলেন অ্যান্ডি, তিনি জানতেন না তাঁর কাজ কী, লক্ষ্য কী, কত দিন আমাজনে থাকবেন—কিছুই না। অ্যান্ডি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে শেষ পরীক্ষা দিয়েছি ১৯৯৭ সালের মে মাসের প্রথম শুক্রবার। পরের সোমবার যোগ দিলাম আমাজনে। আমি সে সময় জানতাম না আমার কাজ কিংবা পদবি কী হবে।’ এরপর আর আমাজন ছাড়েননি তিনি।

বছর পাঁচেকের মধ্যে ৫৭ জন মানুষ নিয়ে এডব্লিউএস চালু করলেন। বিভাগটি দ্রুত সফল হলেও ২০১৬ সালের আগে স্বীকৃতি পাননি অ্যান্ডি। সে বছর তাঁকে এডব্লিউএসের প্রধান নির্বাহী ঘোষণা করেন জেফ বেজোস। এখন বিশ্বব্যাপী লাখো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এডব্লিউএসের সেবা ব্যবহার করে থাকে।

default-image

কবে থেকে আমাজনের সিইও হচ্ছেন

জেফ বেজোস সিইওর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন গত মঙ্গলবার। সেদিন জানানো হয়েছিল, আমাজনে এই পরিবর্তন আসবে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আমরা আশা করতে পারি সে প্রান্তিকের শুরুতেই অ্যান্ডি জ্যাসি দায়িত্ব নেবেন।

কোথায় পড়াশোনা করেছেন

জ্যাসির জন্ম ১৯৬৮ সালের ১৩ জানুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্কার্সডেল শহরে বেড়ে উঠেছেন। শৈশব সেখানেই এক স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৯০ সালে স্নাতক করেন। সেখানে পড়াশোনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্রিকা ‘দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসন’-এর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করে সরাসরি আমাজনে যোগ দেন। সেখানেই কাটিয়ে দিলেন প্রায় ২৪ বছর।

বিজ্ঞাপন
default-image

জ্যাসি যেখানে সফল

এডব্লিউএসই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য। একটি ই-কমার্স ব্যবসায়কে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন। এখন সব ধরনের প্রতিষ্ঠান এডব্লিউএসের পণ্য ব্যবহার করে—ছোট স্টার্টআপ থেকে শুরু করে অ্যাপলের মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এবং ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকেও এডব্লিউএসে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন জ্যাসি। পিন্টারেস্ট, স্ল্যাক, লিফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আইপিওতে এলে দেখা যায় সেগুলোও এডব্লিউএসের গ্রাহক।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে সেবা দেওয়া শুরু করে এডব্লিউএস। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ছোট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সফটওয়্যার নির্মাতাদের ক্লাউড ডেটা স্টোরেজ এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা দেওয়া। এরপর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও দেখল নিজস্ব সার্ভারে বিনিয়োগের চেয়ে আমাজনের সেবা নেওয়া সাশ্রয়ী। এরপর সম্ভাবনাময় খাত বুঝতে পেড়ে মাইক্রোসফট ও গুগল যখন ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগে বিনিয়োগ শুরু করে, জ্যাসি তত দিনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে বহু দূর এগিয়ে গেছেন।

সাইনার্জি রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মাঝামাঝির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো সেবার ৩৩ শতাংশ সরবরাহ করে আমাজন। এরপর মাইক্রোসফট (১৮ শতাংশ) এবং গুগলের (৯ শতাংশ) অবস্থান।

মঙ্গলবার আমাজন জানিয়েছে, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে এডব্লিউএসের আয় ২৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ৩৭ শতাংশ অপারেটিং আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ কোটি ডলারে, যা আমাজনের মোট অপারেটিং আয়ের অর্ধেকের বেশি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন অনেক সেবা দেওয়া শুরু করেছে আমাজন। যেমন ডেটাবেইস, অ্যানালিটিকস টুল, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং মেশিন লার্নিং সফটওয়্যার। এতে ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে এডব্লিউএস।

default-image

জ্যাসিকে কেন বেজোসের ‘ব্রেইন ডাবল’ বলা হয়

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সাল থেকে বেজোসকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন অ্যান্ডি জ্যাসি। পরিচালনা পর্ষদের মিটিংয়ে গেছেন, বেজোসের হয়ে ফোনকল ধরেছেন। কারণ বেজোসের ব্রেইন ডাবল হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য, যেন বেজোসের মনে আসা প্রশ্ন আগেই অনুমান করতে পারেন জ্যাসি। কিংবা তাঁর বসের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বেজোসকে অনুসরণ করে আমাজনে এখন প্রায় দুই যুগ কাটিয়ে দিয়েছেন জ্যাসি। এবার আমাজনের হাল তুলে দেওয়া হলো তাঁর হাতে। বলা যেতে পারে, বেজোস যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, সে পথেই হয়তো এগোবেন জ্যাসি। কিংবা বসকে অনুসরণ করে হয়তো উচ্চাভিলাষী সব প্রকল্প হাতে নেবেন। আর পাশে থেকে প্রয়োজনে পথ দেখাবেন নির্বাহী চেয়ারম্যান বেজোস।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন