default-image

এখনো অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট খাতে সহযোগীদের উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এ বছরের শুরুতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭-এর আনুষ্ঠানিক জীবন চক্র শেষ করেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট জেডডিনেট জানিয়েছে, এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ৭-এর জীবনকাল পার হওয়ার পর তা ব্যবহার করা হলে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অবকাঠামোতে সাইবার দুর্বৃত্তদের লক্ষ্যবস্তুর ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, প্রতিষ্ঠান বা এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার চালু থাকলে সাইবার দুর্বৃত্তরা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উইন্ডোজ ৭ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ মাইক্রোসফট এতে সমর্থন বন্ধ করে দেওয়ায় নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উইন্ডোজ ৭-এ নতুন নতুন ত্রুটি ধরা পড়তে পারে। অর্থ খরচ করে খুব কম মানুষ উইন্ডোজ ৭ সিস্টেমের প্যাঁচ হালনাগাদ রাখতে পারবে। সাইবার দুর্বৃত্তরা তাই উইন্ডোজ ৭ কে সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখবে। এ কারণে সংস্থাটির পক্ষ থেকে হালনাগাদ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হচ্ছে।

নতুন অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করতে হলে অনেক পিসির হার্ডওয়্যার সমর্থন করবে না। নতুন অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করতে তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খরচের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সমস্যা হলেও এর আগে উইন্ডোজ এক্সপির ক্ষেত্রেও সাইবার দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এফবিআই বলছে, কোনো অপারেটিং সিস্টেমের জীবনকাল শেষ হলে স্বাস্থ্য খাতে সাইবার আক্রমণ বাড়তে পারে বেশি। ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল এক্সপির জীবনকাল শেষ হওয়ার পরের বছরেই স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার আক্রমণ বাড়তে দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে হালানাগাদ অপারেটিং সিস্টেমের পাশাপাশি অ্যান্টিভাইরাস, স্প্যাম ফিল্টার, ফায়ারওয়াল হালনাগাদ ও নিরাপদ রাখতে হবে। নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে হালনাগাদ সিস্টেমকে পুরোনো সিস্টেম থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে। দ্বিস্তর বিশিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে হবে।

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ‘মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭’ থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয় মাইক্রোসফট। অর্থাৎ, এ সিস্টেমের জন্য আর নিরাপত্তা প্রোগ্রাম হালনাগাদ করবে না বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। তারা এখন থেকে নতুন প্রযুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হবে। এখন শুধু যাঁরা অর্থ খরচ করে মাইক্রোসফটের সেবা নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ সেবা দেবে তারা।

অ্যাপ্লিকেশনের তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান নেট অ্যাপ্লিকেশনের জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ দখল করেছে উইন্ডোজ ১০। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডোজ ১০-এর দখল ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। পিসির বাজারে এখনো উইন্ডোজ ৭ বেশ বড় দখল রেখেছে। পিসির মোট অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে এখনো উইন্ডোজ ৭-এর দখলে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ আর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে এর দখল ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0