default-image

ভাঁজযোগ্য (ফোল্ডেবল) স্মার্টফোনে বেশ আগ্রহী মনে হচ্ছে স্যামসাংকে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের উৎপাদন বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে এমন ফোন আনছে, যেটি দুবার ভাঁজ করা যাবে।

স্যামসাং এর আগে জানিয়েছিল, চিপ–সংকটের কারণে এ বছর তারা নোট সিরিজের নতুন স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ছে না। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহ ডং-জিন বলেছেন, চিপ–সংকটের মধ্যেও ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তাঁদের।

চলতি বছরে গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ এবং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজগুলোর নতুন মডেল ছাড়ার কথা রয়েছে স্যামসাংয়ের। সেই সঙ্গে বছরের শেষ নাগাদ ছাড়া হতে পারে দুবার ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন। তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া। তা ছাড়া স্মার্টফোনে দুটি হিঞ্জ যুক্ত করার একাধিক পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছে স্যামসাং।

বছরে গ্যালাক্সি নোট সিরিজের সমপরিমাণ ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বিক্রির পরিকল্পনা করছে স্যামসাং। সে হিসাবে বছরে অন্তত এক কোটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোন তৈরি করতে হবে স্যামসাংকে। তবে পরিকল্পনাটি বাজারের অবস্থা বুঝে পরিবর্তন করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ধারণা, মূলত স্মার্টফোনের সিরিজে পরিবর্তন আনতে এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এগিয়ে থাকার কথা ভাবছে স্যামসাং।

আরেকটি উৎস বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যালাক্সি এস এবং গ্যালাক্সি নোট সিরিজ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফারাক তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে স্যামসাং। ফোল্ডেবল সিরিজের স্মার্টফোনগুলো সেই চেষ্টা কিছুটা হলেও সফল করবে, যা ভবিষ্যতে নোট সিরিজের স্থলাভিষিক্ত হবে।

ফোল্ডেবল ফোন বিক্রির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, পূরণ হলে ধরে নেওয়া যেতে পারে, স্যামসাংয়ের বার্ষিক আয়ও বাড়বে। কারণ, ফোল্ডেবল স্মার্টফোনগুলোর দাম সচরাচর সাধারণ স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় বেশ বেশি হয়। যেমন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ২ গত বছর বাজারে আসে। সেটির দাম ছিল প্রায় দুই হাজার ডলার। আর গ্যালাক্সি নোট ২০ মডেলের স্মার্টফোনের দাম শুরু হয় এক হাজার ডলারে।

২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন বিক্রেতার তালিকার শীর্ষে ছিল স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটি ২৬ কোটি ৬৭ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করে গত বছর। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি বলছে, স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন বিক্রি কমলেও বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন