২০২০ সালে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ৯ মার্কিন ধনীর সম্পদ বেড়েছে ৩৬ হাজার কোটি ডলার। সবচেয়ে বেড়েছে টেসলার ইলন মাস্কের সম্পদ। এরপর রয়েছেন আমাজনের জেফ বেজোস, গুগলের ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ, ওরাকলের ল্যারি এলিসন, মাইক্রোসফটের সাবেক দুই প্রধান নির্বাহী বিল গেটস ও স্টিভ বলমার এবং ডেল টেকনোলজিসের মাইকেল ডেল। সম্পদ বৃদ্ধির মূল কারণ তাঁদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়ে যাওয়া।
default-image

করোনাকালে দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ। তবে তাঁদের মধ্যে নেই মার্কিন ধনকুবেররা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ২০২০ সালেই দেশটির প্রযুক্তি খাতের ৯ শীর্ষ ধনীর সম্পদ ৩৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।

করোনাকালে ধনীদের তালিকার শীর্ষে ওঠেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। পরে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। গত বছর তাঁর মোট সম্পদ অন্তত পাঁচ গুণ হয়েছে। এদিকে ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ যোগ দিয়েছেন ১০ হাজার কোটি ডলার ক্লাবে। আর গুগলের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিনের মোট সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

অ্যাপলের বাজারমূল্য ২ লাখ কোটি ডলার ছাড়ালে বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় যুক্ত হন অ্যাপলের সিইও টিম কুক।

করোনাকালে মানুষ ঘরে থাকায় বেড়েছে ই-কমার্সের পরিসর। এতে লাভবান হয়েছে আমাজন। করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাবের শুরুতে গ্রাহকদের ফরমাশের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

default-image

প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরে থেকে কাজের উদ্যোগ নিলে বাড়ে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা। আমাজন, গুগল, ফেসবুক ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেটা স্টোরেজ সেবা গ্রহণ করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া অনলাইন মার্কেটিং এবং যোগাযোগ সেবার চাহিদা বাড়াও গুগল ও ফেসবুকের সম্পদ বৃদ্ধির একটি কারণ।

বিজ্ঞাপন

ধনী গ্রাহক, অর্থাৎ করোনাকালে যাঁদের কর্মহীন হওয়ার শঙ্কা ছিল না, ঘরে থাকায় বরং তাঁদের আয় বৃদ্ধি হয়েছে। টেসলার শেয়ারদরে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে অবদান রেখেছেন তাঁরা।

প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় আরও আছেন ওরাকলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসন। গত বছর তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৯ হাজার ৩০ কোটি ডলার হয়েছে। একই মেয়াদে ডেল টেকনোলজিসের সিইও মাইকেল ডেলের সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেনের কোভিড-১৯ রিলিফ প্যাকেজের দুই-তৃতীয়াংশ কেবল করোনাকালে হওয়া মুনাফা থেকেই দিতে পারবেন মার্কিন বিলিয়নিয়াররা।

তবে মার্কিন অর্থনীতির চিত্র কিন্তু পুরোপুরি উল্টো, তাঁদের এই সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে মেলে না। গত বছর বেকারত্ব যেমন বেড়েছে, ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যাও ছিল উদ্বেগজনক। সম্পদবৈষম্যের চিত্র প্রকট হয়েছে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন