default-image

প্রস্তাবিত হালনাগাদের পর ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট সম্মতি নিয়ে তবেই আইফোন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে ফেসবুক। তথ্য বেহাত হওয়ার ভয়ে ধরে নেওয়া যায়, অনেক ব্যবহারকারীই সে সম্মতি দেবেন না। এতে ফেসবুকের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুবিধা ব্যাহত হবে। প্রতিষ্ঠানটির আয় কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

ব্যবহারকারী কী ধরনের পরিবর্তন দেখবে?

‘ফেসবুককে আপনার তথ্য সংগ্রহ করতে দেবেন কি না?’ আগামী মাসগুলোর কোনো এক সময় আইফোন ব্যবহারকারীরা এমন একটি বার্তা পাবেন অ্যাপলের কাছ থেকে। ব্যবহারকারী যদি অস্বীকৃতি জানান, তবে ফেসবুককে ওই ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত রাখবে অ্যাপল।

বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে এমন যেকোনো অ্যাপের বেলায় অ্যাপলের পক্ষ থেকে একই ধরনের বার্তা দেখানো হবে।

এদিকে ফেসবুক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের তারা আগেভাগেই বার্তা পাঠিয়ে সম্মতি জানানোর অনুরোধ জানাবে। ফেসবুকের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, অ্যাপলের বার্তায় সম্মতি জানানো মানে ফেসবুককে নতুন ধরনের তথ্য সংগ্রহের সম্মতি দেওয়া নয়। এর অর্থ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা জারি রাখতে পারবে।

কী ধরনের তথ্যের কথা বলা হচ্ছে এখানে?

মনে করুন, আপনি অনলাইনে জুতা কেনার চেষ্টা করেছেন। এরপর দেখবেন, ফেসবুক নিউজফিডসহ আরও অনেক ওয়েবসাইটে জুতার বিজ্ঞাপন দেখাবে। আবার অনেক সময় সশরীর জুতার দোকানে গেলেও পরবর্তী সময় কোনো অ্যাপে জুতার বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।

ইন্টারনেটে আপনাকে ট্র্যাক করার এই ক্ষমতা আপাতদৃষ্টিতে ভয়ংকর মনে হতে পারে। ব্যাপারটা ভয়ংকরও। তবে আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানতে পারে, ঠিক কোথায়, কখন ও কী ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। এই তথ্যের মধ্যে আপনি যে যে স্থানে গিয়েছেন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যও থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

এখানে অ্যাপল কী করছে?

ব্যবহারকারীর ঠিক কতটুকু তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সংগ্রহ করতে পারবে, তা ব্যবহারকারীর হাতেই ছেড়ে দিতে চায় অ্যাপল। যেমন অবস্থান ট্র্যাক করার অপশন চাইলে বন্ধ করতে পারবেন ব্যবহারকারী। আবার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার সময় কোনো অ্যাপ ট্র্যাক করা জারি রাখলে তা-ও ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে অ্যাপল।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক গত মাসে কম্পিউটারস, প্রাইভেসি এবং ডেটা প্রোটেকশন সম্মেলনে বলেছেন, এখন ব্যবহারকারীরা হয়তো জানেন না তাঁরা যে অ্যাপ সময় কাটানোর জন্য, বন্ধুদের সঙ্গে আলাপচারিতার জন্য কিংবা রেস্তোরাঁ খোঁজার জন্য ব্যবহার করছেন, তা হয়তো ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্টে থাকা মানুষদের সম্পর্কে, অবস্থান সম্পর্কে কিংবা ফোনের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলোর তথ্য অন্য কারও কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

আইওএস প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কোন অ্যাপ কী কী তথ্য সংগ্রহ করে, তা প্রকাশ করতে অ্যাপ নির্মাতাদের গত বছরের শেষ দিকে বাধ্য করেছিল অ্যাপল। অ্যাপ স্টোরে কোনো অ্যাপের বিবরণীতে সে তথ্য যুক্ত করে অ্যাপ নির্মাতারা।

পরবর্তী ধাপে অ্যাপগুলোর তথ্য সংগ্রহের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতেই ছেড়ে দেবে অ্যাপল। কোন অ্যাপ কতটুকু তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে, আদৌ পারবে কি না, আইওএস ১৪-এর কোনো একটি হালনাগাদে এই অপশন চালু করবে অ্যাপল।

ফেসবুকের জবাব কী?

অ্যাপলের উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি নিয়ে যারা সোচ্চার। তবে স্বাভাবিক কারণেই ফেসবুক নাখোশ। তাদের ব্যবসায়ে সরাসরি আঘাত করবে বলে মনে করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

ফেসবুক অবশ্য কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে না যে তাদের নিজেদেরই ব্যবহারকারীর তথ্য প্রয়োজন। ঘুরিয়ে বলছে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখাতে চাইলে এই তথ্যগুলো তাদের প্রয়োজন, যা প্রস্তাবিত হালনাগাদের পর ব্যাহত হবে।

এক ফেসবুক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, অ্যাপলের এই উদ্যোগ পার্সোনালাইজড বিজ্ঞাপন এবং প্রাইভেসির মধ্যে ভুল ভারসাম্য তৈরি করবে। অথচ আমরা দুটোই ঠিকমতো করতে পারতাম। নিজেদের পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিতেই এমন কাজ করছে অ্যাপল।

default-image

প্রাইভেসির এই লড়াই কোন পথে এগোচ্ছে?

ফেসবুকের প্রতিরোধে অ্যাপল দমে যাবে বলে মনে হয় না। কারণ, অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার জন্য ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহকেই দুষছেন অ্যাপলের টিম কুক।

কুক বলেছেন, প্রযুক্তির সাহায্যে ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বিশাল পরিমাণে তথ্য সংগ্রহের বহু বছর আগে থেকেই বিজ্ঞাপনের চল ছিল।

টিম কুকের সে বক্তব্যের এক দিন আগেই ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, অ্যাপল কাজটি করছে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব থেকে, প্রাইভেসির জন্য নয়। জাকারবার্গ বলেছেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের এবং অন্য অ্যাপ নির্মাতাদের কাছ থেকে অ্যাপ ও সেবার বাজারের দখল নেওয়ার ওপর অ্যাপলের ব্যবসায় নির্ভর করছে।’

দুই রাজার যুদ্ধে গুগলের অবস্থান কোথায়?

ফেসবুকের মতো গুগল অবশ্য এত প্রতিবাদী ভূমিকা নেয়নি। সাম্প্রতিক ব্লগ পোস্টে গুগল জানিয়েছে, তারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অ্যাপ হালনাগাদ করছে। সে সঙ্গে গ্রাহকদের জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের পর তারা হয়তো গুগলের বিজ্ঞাপনী আয়ে বড় পরিবর্তন দেখতে পাবে।

তবে অ্যাপল সম্ভবত গুগলের ব্যবসায়েও ভাগ বসানোর পরিকল্পনা করছে। আইওএস ১৪-এর সার্চ বারে গুগলের জায়গায় নিজেদের সার্চ রেজাল্ট দেখাচ্ছে অ্যাপল। তবে অ্যাপল শিগগিরই নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন চালু করবে বলে মনে হয় না।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন