default-image

প্লে স্টোর থেকে ১৭টি ক্ষতিকর অ্যাপ সরিয়ে দিয়েছে গুগল। জোকার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট, এসএমএস ও মুঠোফোন–সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

বেশ কিছুদিন ধরেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আতঙ্ক হয়ে রয়েছে ‘জোকার’ ম্যালওয়্যার। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার গুগল প্লে স্টোরে প্রকৃত অ্যাপের ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট জেডডিনেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
কেউ যদি এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে থাকেন, তাঁকে দ্রুত মুঠোফোন থেকে তা আনইনস্টল করে ফেলতে হবে।

যখন এটি কারও স্মার্টফোন বা অন্য ডিভাইসে আক্রমণ করে, তখন এটি এসএমএসের অ্যাকসেস নিতে পারে। এ ম্যালওয়্যার ছড়ানো দুর্বৃত্তরা জোকার ব্যবহার করে স্মার্টফোনের কন্টাক্ট লিস্ট ও ডিভাইসের সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। এতে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপন বিষয়গুলো হুমকির মুখে পড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেডস্ক্যালারের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তাঁরা ১৭টি ক্ষতিকর অ্যাপে জোকার সংক্রমণ খুঁজে পান। অ্যাপগুলো হচ্ছে অল গুড পিডিএফ স্ক্যানার, মিন্ট লিফ মেসেজ-ইয়োর প্রাইভেট মেসেজ, ইউনিক কি–বোর্ড–ফ্যান্সি ফন্টস অ্যান্ড ফ্রি ইমোটিকনস, ট্যানগ্রাম অ্যাপ লক, ডিরেক্ট মেসেঞ্জার, প্রাইভেট এসএমএস, ওয়ান সেনটেন্স ট্রান্সলেটর—মাল্টিফাংশনাল ট্রান্সলেটর, স্টাইল ফটো কলাজ, মেটিকুলাস স্ক্যানার, ডিজায়ার ট্রান্সলেট, ট্যালেন্ট ফটো এডিটর-ব্লার ফোকাস, কেয়ার মেসেজ, পার্ট মেসেজ, পেপার ডক স্ক্যানার, ব্লুস্ক্যানার, হামিংবার্ড পিডিএফ কনভার্টার-ফটো টু পিডিএফ ও অল গুড পিডিএফ স্ক্যানার।

এ বছরের শুরুতে গুগলের পক্ষ থেকে প্লে স্টোরে জোকার ম্যালওয়্যার থাকার বিষয়টি জানানো হয়। ক্ষতিকর এ প্রোগ্রাম মূলত ২০১৭ সাল থেকেই গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে। গুগল একে তাদের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মোকাবিলা করতে থাকা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিজ্ঞাপন

জেডডিনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় মাসখানেক আগে এসব অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ছাড়া হয়। ম্যালওয়্যারযুক্ত এসব অ্যাপ গুগল ইতিমধ্যে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেউ যদি এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে থাকেন, তাঁকে দ্রুত মুঠোফোন থেকে তা আনইনস্টল করে ফেলতে হবে।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো জোকার ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে সরানো হল। এ মাসের শুরুতে ছয়টি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে সরায়। গত জুলাই মাসে আরও বেশ কিছু অ্যাপ সরিয়ে ছিল গুগল। এসব অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ড্রপার নামের একটি বিশেষ পদ্ধতিতে আপলোড করা হয়। এতে প্রকৃত অ্যাপের ছদ্মবেশে আরেকটি অ্যাপ তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে অ্যাপটি চালানোর সময় কোনো ক্ষতিকর কার্যক্রম শুরু করে না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর থেকে এটি কার্যক্রম শুরু করতে পারে। গুগলে নিরাপত্তা স্ক্যানে এটি ধরা পড়ে না বলে গুগল প্লে স্টোরে থেকে যায়।

ম্যালওয়্যারটি নিয়ে আতঙ্কের কারণ হচ্ছে প্রাইভেসি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জোকার অনেকটাই গোপনে কোনো অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন চালু করে দেয় বা কোনো ওয়েবসাইটের প্রিমিয়াম সেবা বা অ্যাপ কেনাকাটা করতে পারে।

গবেষকেরা বলেন, জোকার নীরবে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনভর্তি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মুঠোফোন থেকে এসএমএস, কন্টাক্ট লিস্ট ও ডিভাইসের নানা তথ্য হাতিয়ে নেয় বলে ব্যবহারকারীকেও সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0