default-image

আকিও মোরিতার চেয়ে মাসারু ইবুকা ১৩ বছরের বড় হলেও দুজনের একটি জায়গায় দারুণ মিল ছিল—বর্তমানে বাস করেই দেখতে পেতেন ভবিষ্যৎ। নইলে নৌবাহিনীর ‘নিরাপদ’ চাকরি ছেড়ে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইলেকট্রনিকসের ব্যবসায় হাত
দেবেন কেন?
ইবুকার জন্ম ১৯০৮ সালের ১১ এপ্রিল আর মোরিতার ১৯২১ সারের ২৬ জানুয়ারি। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এ দুই মানুষের পরিচয় যুদ্ধক্ষেত্রেই। দুজনই ছিলেন জাপানের নৌবাহিনীতে, অংশ নিয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ইম্পেরিয়াল জাপানিজ নেভিতে কাজ করার সময়ই দুজনের সখ্য, ঘনিষ্ঠতা আর সেখান থেকেই স্বপ্নের জাল বোনা।
১৯৪৬ সালে নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে টোকিওতে রেডিও মেরামতের দোকান দেন ইবুকা। তখন তাঁর পুঁজি ছিল ৫৩০ ডলার। দোকানে কর্মী ছিল সাকল্যে আটজন। কিছুদিন পর ইবুকার সঙ্গে যোগ দেন মোরিতাও। ১৯৪৬ সালের ৭ মে মোরিতা-ইবুকা প্রতিষ্ঠা করেন ‘টোকিও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন’। এ কোম্পানিকে বলা হয় এখনকার বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস পণ্যনির্মাতা সনির আঁতুড়ঘর।
৩৮ বছরের ইবুকা আর ২৫ বছরের মোরিতার স্বপ্নের কোম্পানিটা চালু হয়েছিল ২০ জন কর্মী ও ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়েন পুঁজি নিয়ে। পুঁজির প্রায় পুরোটাই জোগান দিয়েছিল মোরিতার পরিবার। এ কারণে শুরুর দিকে কোম্পানির বড় শেয়ারহোল্ডার ছিলেন মোরিতা। তিনি মূলত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। আগে থেকেই তাঁদের খাদ্যশস্যের ব্যবসা ছিল।
১৯৪৯ সালে এই কোম্পানি তৈরি করে ম্যাগনেটিক রেকর্ডিং টেপ। ১৯৫০ সালে তারা প্রথম জাপানে বিক্রি করে টেপরেকর্ডার। একই সালে বেল ল্যাবস (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে ট্রানজিস্টর প্রযুক্তির লাইসেন্স নিশ্চিত করেন ইবুকা। এতে তারা প্রথম বেসামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ট্রানজিস্টর প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ পায়। ১৯৫৭ সালে এই কোম্পানি থেকেই তৈরি হয় একটি পকেট আকারের রেডিও। এর ধারণাটা ছিল মোরিতার মস্তিষ্কপ্রসূত।

default-image

১৯৫৮ সালে ঘটল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা। নাম বদলে ফেলা হলো কোম্পানির। নতুন নাম ‘সনি’। ল্যাটিন ‘সোনাস’ থেকে এ শব্দের উৎপত্তি, অর্থ শব্দ। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রেও একই শব্দ চালু, অর্থ বালক। এ দুটি শব্দের মিশেল ও উচ্চারণে সহজবোধ্যতার কারণেই এমন নামকরণ। ১৯৬০ সালে সনি তৈরি করল বিশ্বের প্রথম ট্রানজিস্টর টেলিভিশন। একই বছর সনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাত্রা শুরু করল মার্কিন মুলুকে। ১৯৬১ সালে প্রথম জাপানি কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে।
এরপর কেবলই এগিয়ে চলা। প্রযুক্তি জগতের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে সনির বিচরণ নেই! রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, জৈবপ্রযুক্তি, ভিডিওগেম, মুঠোফোন এমনকি সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতেও সনির ভূমিকা অগ্রগণ্য। শুধু তা-ই নয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনেও সনির সুনাম বিদিত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন