বিজ্ঞাপন

স্যাটেলাইটের ছবি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

যুদ্ধের প্রতিবেদন তৈরিতে স্যাটেলাইটের ছবি এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক যুদ্ধে গাজা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন অনুসন্ধানী প্রতিবেদকেরা। তবে গুগল আর্থের মতো সর্বাধিক ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মেও গাজার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা এবং নিম্নমানের দেখায়।

default-image

ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম বেলিংক্যাটের সংবাদকর্মী অ্যারিক টলার টুইটারে লিখেছেন, গুগল আর্থের সর্বশেষ ছবি ২০১৬ সালের, সেগুলো একদম বাজে মানের। সিরিয়ার বেশ কিছু গ্রামীণ অঞ্চল জুম করে দেখছি, অথচ ওই ছবিগুলো যখন তোলা হয়, তারপর অন্তত ২০ বার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি তোলা হয়েছে।

গুগল জানিয়েছে, ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকার ছবি নিয়মিত হালনাগাদ করে তারা। তবে গাজার ক্ষেত্রে ঘটনাটি ভিন্ন।

উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি কি পাওয়া যায়?

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্যাটেলাইট ছবি বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহের অনুমতি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর আছে, গত বছর পর্যন্তও তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছিল মার্কিন সরকার। ইসরায়েলের নিরাপত্তা-উদ্বেগ আমলে নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রণীত কাইল-বিঙ্গামান অ্যামেন্ডমেন্টে (কেবিএ) এই বিধিনিষেধের কথা লেখা হয়।

সেখানে বলা হয়, স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের ছবি বিক্রি করতে পারবে, তবে সেগুলো হতে হবে কম রেজল্যুশনের। সেখানে প্রতি পিক্সেলে ভূমির দুই মিটারের কম দেখানো যাবে না। অর্থাৎ গাড়ির আকারের কোনো বস্তু বড়জোর দৃষ্টিগোচর হতে পারে, তবে এর ছোট কিছু নয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ঘাঁটি ঝাপসা করে দেওয়ার ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটেছে। তবে পুরো দেশের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার সেটিই একমাত্র উদাহরণ। আইনে কেবল ইসরায়েলের উল্লেখ থাকলেও সেটি ফিলিস্তিনের অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের প্রতিষ্ঠান, যেমন ফ্রান্সের এয়ারবাস ওই অঞ্চলগুলোর উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট-ছবি সরবরাহ করা শুরু করলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

অবশেষে ২০২০ সালের জুলাইয়ে বাতিল করা হয় কেবিএ। এখন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোও ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ করতে পারে। তাতে প্রতি পিক্সেলে ৪০ সেন্টিমিটার দেখানো সম্ভব। অর্থাৎ ওই ছবিতে প্রতিটি মানুষ আলাদা করে শনাক্ত করা যাবে।

কেবিএ বাতিলের জন্য যাঁরা জোর প্রচারণা চালিয়েছেন, তাঁদের একজন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্ববিদ মাইকেল ফ্র্যাডলি। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক। আমাদের প্রকল্পগুলোতে কাজ করার জন্য তথ্যসূত্র চেয়েছিলাম আমরা। আর তাই ফিলিস্তিনের দখল করা এলাকাগুলোর উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছিলাম। এতে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোর সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ পাওয়া যায়।’

তাহলে গাজা এখনো ঝাপসা কেন?

গুগল ও অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিষ্ঠান দুটির মানচিত্র সেবায় স্যাটেলাইট ছবি দেখানো হয়।

default-image

অ্যাপল জানিয়েছে, তারা শিগগিরই উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি দেখানোর জন্য কাজ শুরু করেছে। আর গুগল বলেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা স্যাটেলাইট ছবি কিনে থাকে। উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি পেলে তারা হালনাগাদ করার কথা ভাববে। তবে বলেছে, ঠিক এই মুহূর্তে তেমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

বেলিংক্যাটের আরেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নিক ওয়াটার্স টুইটারে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর গুরুত্ব আমলে নিয়ে এই অঞ্চলগুলোর নিম্নমানের স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।’

ছবিগুলো আসলে তোলে কারা?

পৃথিবীর ছবি তোলা হয় স্যাটেলাইট থেকে। আর স্যাটেলাইটগুলোর মালিকপক্ষ কিংবা যারা ইজারা নিয়ে থাকে, ছবিগুলো তাদের তোলা। আর ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে গুগল আর্থ এবং অ্যাপল ম্যাপসের মতো সেবাগুলো।

ম্যাক্সার এবং প্ল্যানেট ল্যাবস নামের বড় দুই সরবরাহকারী ইসরায়েল এবং গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ শুরু করেছে।

ম্যাক্সার এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন আইনের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে ইসরায়েল এবং গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের (প্রতি পিক্সেলে ৪০ সেন্টিমিটার) ছবি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর প্ল্যানেট ল্যাবস বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা এখন ৫০ সেন্টিমিটার রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ করে থাকে।

তবে বিনা মূল্যে পাওয়া যায় এমন মানচিত্র সেবার ওপর নির্ভর করেন অনুসন্ধানী প্রতিবেদকেরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তাঁরা পান না।

উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে কী থাকে?

এখানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর কথা বলা যেতে পারে। গ্রামগুলোতে সামরিক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখানোর জন্য ২০১৭ সালে প্ল্যানেট ল্যাবসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ওই অঞ্চলের দুই শর বেশি গ্রামের ধ্বংসযজ্ঞের আগের ও পরের চিত্র উঠে আসে ছবিগুলোতে। সেনাদের অত্যাচারের যে দাবি রোহিঙ্গারা করেছিল, তার সত্যতা প্রমাণ করে ছবিগুলো।

সূত্র: বিবিসি

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন