চলে গেলেন কম্পিউটার মাউসের সহ-উদ্ভাবক

বিজ্ঞাপন
default-image

কম্পিউটার মাউসের সহ-উদ্ভাবক উইলিয়াম ইংলিশ আর নেই। তাঁর পরিবার সূত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, ২৬ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে ১৯২৯ সালে জন্ম নিয়েছিলেন এই প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মার্কিন নেভিতে যোগ দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক প্রকৌশল নিয়ে পড়ালেখা করেন তিনি।

প্রথম মাউস ১৯৬৩ সালে তৈরির কৃতিত্ব তাঁর। মাউসের ধারণা অবশ্য তাঁর নয়, সহকর্মী ডগলাস অ্যাঙ্গেলবার্টের। দুজনেই ওই সময়টিতে প্রাথমিক কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছিলেন। ইংলিশ শুধু মাউসের সহ-উদ্ভাবক নন, প্রথম মাউস ব্যবহারকারীও তিনি। স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে অ্যাঙ্গেলবার্টের গবেষণা প্রকল্পের অধীনে প্রথম মাউসটি তৈরি করেন তিনি। ধারণা অ্যাঙ্গেলবার্টের থাকলেও পুরো কারিগরি কাজটিই নিজে করেছিলেন ইংলিশ।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ষাটের দশকে এই মার্কিন প্রকৌশলী স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (এসআরআই) ডগলাস অ্যাঙ্গেলবার্টের সঙ্গে ১৯৬০ সালে যোগ দেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল আজকের কম্পিউটারের পূর্বসূরি তৈরি করা। স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কম্পিউটারের জন্য বিশ্বের প্রথম মাউস তৈরি হয়। তখন মাউসটি তৈরি করা হয়েছিল একটি বক্সের মধ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বিশেষ চাকা, যার মাধ্যমে মাউসটি ব্যবহৃত হতো। আকারেও সেই মাউসটি ছিল বর্তমান মাউসগুলোর তুলনায় বড়। মাউস ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ডগলাস ওয়ার্ড প্রসেসিং, ভিডিও টেলিসম্মেলন নিয়েও কাজ করেছিলেন। ইংলিশ অ্যাঙ্গেলবার্টের ধারণাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।

এসআরআইয়ে কাজ করা তাঁদের সহকর্মী বিল ডুভালের মতে, ইংলিশ ছিলেন যেকোনো সমস্যার সমাধানদাতা। সবকিছু সম্ভব করে ফেলতেন তিনি। ‘দ্য মাদার অব অল ডেমোস’ নামে পরিচিত ডিভাইসের মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৯৭১ সালে ছেড়ে জেরক্সের পার্ক গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দেন ইংলিশ। সেখানে প্রথমবারের মতো মাউসে চাকার পরিবর্তে বল জুড়ে দেন ইংলিশ। এ নকশাতেই বহু বছর চলেছে মাউস।

মাউসের আরেক উদ্ভাবক অ্যাঙ্গেলবার্ট মারা যান ২০১৩ সালে, ৮৮ বছর বয়সে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন