default-image

প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে চার দিনের আয়োজন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। 
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখা ৫৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে পর্দা নামে এই আয়োজনের। 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া দৈনিক সমকাল, সেরা সাংবাদিক মুন্নী সাহা, তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকতায় রেডিও আমার বার্তা প্রধান আবীর হাসান, সেরা নারী উদ্যোক্তা ফারহানা এ রহমান, বিডি জবস প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর এবং অস্কারজয়ী নাফিস বিন জাফরকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। 
নাগরিক সেবায় প্রযুক্তি ব্যবহারে সেরা পুলিশ সুপার (এসপি) হয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হক। সেরা পুলিশ অফিসার (ওসি) হয়েছেন চট্টগ্রামের খুলশী থানার ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সেরা ডিজিটাল পৌরসভা ঝিনাইদহ পৌরসভা। সেরা ডিজিটাল হাসপাতাল জাতীয় কিডনি ডিজিসেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকড)। সেরা ডিজিটাল ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সেরা নারী উদ্যোক্তা ফারহানা এ রহমান। 

জেলা প্রশাসক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকার তোফাজ্জাল হোসেন মিয়া, ফেনীর মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, কুষ্টিয়ার সৈয়দ বেলাল হোসেন, বগুড়ার মো. শফিকুর রেজা। পটুয়াখালীর অমিতাভ সরকার, সুনামগঞ্জের শেখ রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুরের আহমদ শামীম আল রাজী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের মো. অহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার চান্দিনার শেখ ছালেহ আহাম্মদ, যশোরের অভয়নগরের সিফাত মেহনাজ, নাটোর সদরের মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, ঝালকাঠি সদরের শামীমা ফেরদৌস, মৌলভীবাজারের বড়লেখার আমিনুর রহমান, পঞ্চগড়ের বেগম মাকসুদা বেগম সিদ্দীকা।
সহকারী কমিশনার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা বিভাগে মো. মমিন উদ্দিন, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ধানমন্ডি সার্কেল, ঢাকা। চট্টগ্রাম বিভাগে মো. সামিউল মাসুদ, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর সার্কেল, চট্টগ্রাম। খুলনা বিভাগে তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নড়াইল সদর, নড়াইল। রাজশাহী বিভাগে শওকাত আলী, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পাবনা সদর। বরিশাল বিভাগে মুহাম্মদ ইব্রাহীম, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বরগুনা সদর, বরগুনা। সিলেট বিভাগে বিএম মশিউর রহমান, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানিয়াচং, হবিগঞ্জ। রংপুর বিভাগে এস এম গোলাম কিবরিয়া, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পীরগঞ্জ, রংপুর।
সেরা ডিজিটাল সেন্টারে ঢাকা বিভাগে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা-রায়পুর, জেলা-নরসিংদী। বরিশালে ছোটবগী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা-তালতলী, জেলা-বরগুনা। খুলনা বিভাগে আলামপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া। সিলেট বিভাগে রুস্তমপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা-গোয়াইনঘাট, জেলা-সিলেট। চট্টগ্রামে নেওয়াজপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, নোয়াখালী সদর উপজেলা, নোয়াখালী। রাজশাহী বিভাগে সয়দাবাদ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ। রংপুর বিভাগে মঙ্গলপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা-বিরল, জেলা-দিনাজপুর।
সেরা ডিজিটাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ঢাকা বিভাগে মুসলিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, বরিশাল বিভাগে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা বিভাগে খুলনা পাবলিক কলেজ। সিলেট বিভাগে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ। চট্টগ্রামে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়। রাজশাহী বিভাগে কামারখন্দ ফাজিল মাদ্রাসা। রংপুর বিভাগে বি পি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।
সেরা ডিজিটাল থানা হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ঢাকা বিভাগে সাভার মডেল থানা, ঢাকা। চট্টগ্রাম বিভাগে দেবীদ্বার থানা, কুমিল্লা। খুলনা বিভাগে কোতোয়ালি থানা, যশোর। রাজশাহী বিভাগে কাহালু থানা, বগুড়া। বরিশালে ভোলা সদর থানা, ভোলা। সিলেট বিভাগে কোতোয়ালি মডেল থানা, এসএমপি, সিলেট। রংপুর বিভাগে সদর থানা, ঠাকুরগাঁও।
এ ছাড়া ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ নিয়ে সম্মাননা পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, রিভ সিস্টেমস, কোর নলেজ লিমিটেড, বিজনেস অটোমেশন, রাইজআপ ল্যাবস, হুয়াউয়ে, ইনোভেশন নেক্সট জেনারেশন সফটওয়্যার লিমিটেড, চালডাল এবং এখনই ডটকম।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘পোশাক খাতে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। কিন্তু আমরা এখন আর শুধু এই খাতের ওপর নির্ভর থাকতে পারি না। আমাদের অন্যান্য খাতও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সফটওয়্যার রপ্তানিতে এক বিলিয়নের মাইলফলক ছোঁয়া। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে দাঁড় করাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা লাগবে, যা অসম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’
জয় আরও বলেন, ‘আমরা এত দিন অপেক্ষা করেছিলাম বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে। আমাদের মেধার অভাব নেই। প্রয়োজন মেধার বিকাশ ঘটানো। পৃথিবীর বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মেধা। আমাদের সেই মেধা রয়েছে। ভবিষ্যতের ফেসবুক, গুগল বাংলাদেশ থেকেই আসবে। সিলিকন ভ্যালি খুঁজছে নতুন আইডিয়া, নতুন সম্ভাবনা। তারা খুঁজছে ভবিষ্যতের ফেসবুক, ইউটিউব কোথায়। তাই তাদের নজর বাংলাদেশের দিকে আনতে আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আইপিওতে আসতে পারে, সে জন্য উদ্যোগ নিতে আলোচনা করেছি।’
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এমন একটি সেক্টর, যেখানে টার্গেটের চেয়ে বেশি অর্জন করা সম্ভব। আর যেহেতু সেক্টরটির প্রতিনিধি তরুণ সমাজ, এই তরুণদের পক্ষে যে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন শুধু আওয়ামী লীগের একার নয়, সারা দেশের মানুষের। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বাংলাদেশের মানুষ। এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি দিনরাত।’
বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান জানালেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা এসেছে এ আয়োজনে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন