default-image

‘লাইক’ করুন বা না করুন ফেসবুকের বয়স ১০ বছর পার হয়ে গেল। অবশ্য আপনার মতো কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ‘লাইক’ না হলে এ পর্যায়ে আসতে পারত না ফেসবুক। তবে এখনও অনেকেই আছেন যাঁরা ফেসবুক ‘লাইক’ করেন না আবার অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে ‘ক্লান্ত’। ফেসবুকের ১০ বছর পূর্তিতে আমরা তুলে এনেছি ফেসবুক নিয়ে বিশেষ ১০ তথ্য।
চলুন ঘুরে আসি ২০০৪ সালের ফেসবুক তৈরির শুরুর সময় থেকে। ফেসবুক তৈরির পর থেকে এর নির্মাতা জাকারবার্গকে পড়তে হয়েছে নানা ঝামেলায়। অনেকেই দাবি করেছেন যে জাকারবার্গ ফেসবুকের নির্মাতাই নন, কিন্তু আদালতের রায়ে সেই বিতর্ক এখন থেমে গেছে। যাঁরা ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ চলচ্চিত্রটি দেখেছেন তাঁরা ফেসবুক নির্মাণ ও এর মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব সম্পর্কে নিশ্চয় জানেন।

এখন স্বীকৃত যে, ২০০৪ সালে হার্ভার্ডের ডরমেটরিতে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ এবং ক্রিস হিউজ। ন্যাপস্টার প্রতিষ্ঠাতা শন পার্কারের পরামর্শে ফেসবুক থেকে ‘দ্য’ বাদ দিয়ে শুধু ফেসবুক করা হয়। ফেসবুকের সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

ইতিহাস

ফেসবুক নির্মাণের শুরুটা জাকারবার্গের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ফেসবুক তৈরির আগে ২০০৩ সালে ফেসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস তৈরি করেছিলেন মার্ক। এতে তিনি হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করেন। তিনি দুইটি করে ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হার্ভার্ডের সব শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে বলেন। এজন্য মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্র হ্যাক করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠায় ফেসম্যাশ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তিনি। শুরু হয় নতুন সাইট ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ তৈরির কাজ যা আজকের ‘ফেসবুক’।

default-image



কোটিপতি কিন্তু ভিন্ন মানুষ জাকারবার্গ
হার্ভার্ডে পড়াশোনার আগে জাকারবার্গ মাইক্রোসফট ও এওএল থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কোটিপতি হিসেবে যাঁর নাম আসে তিনি ফেসবুক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। কোটিপতি হলেও জাকারবার্গ তাঁর ট্রেডমার্ক পোশাক হিসেবে ধূসর টি-শার্ট আর জিনস। এ ধরনের পোশাক পরার কারণ, তাঁকে অন্তত পোশাক নিয়ে কম চিন্তা করতে হয়। ফেসবুক ছাড়াও টুইটার ব্যবহার করেন জাকারবার্গ। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে কোনো টুইট করেননি তিনি। চীনা বংশোদ্ভূত বান্ধবী প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছেন তিনি। বিশ্বের দানশীল ব্যক্তিদের তালিকায়ও জাকারবার্গের নাম রয়েছে।

ফেসবুকের ভাগ বাটোয়ারা
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফেসবুকে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়েছে। আর এই বিনিয়োগকারীরাও বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ২০০৪ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠার সময় ন্যাপস্টারের প্রতিষ্ঠাতা শন পার্কার জাকারবার্গকে পেপ্যালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার থায়েলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। থায়েল ফেসবুকে পাঁচ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ফেসবুকের ১০.২ শতাংশ শেয়ার নিজের করে নেন। ফেসবুক কেনার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতেই হাত বাড়িয়েছিল। কিন্তু বিক্রি করেননি জাকারবার্গ। ২০০৬ সালে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে ইয়াহু ফেসবুককে কিনতে চেয়েছিল। জাকারবার্গ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কাজে মনোযোগ দেন। সেসময় মাত্র ১০ লাখ মার্কিন ডলারের জন্য ফেসবুক-ইয়াহুর চুক্তি হয়নি। বর্তমানে ফেসবুকে জাকারবার্গের শেয়ার রয়েছে ২৮ শতাংশ আর শন পার্কারের চার শতাংশ। মস্কোভিজের ৭.৬, সেভেরিনের চার শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০০৭ সালে ২৪ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে ফেসবুকের ১.৬ শতাংশের শেয়ার কেনে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

default-image

ফেসবুকের কেনাকাটা
যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ফেসবুকে পরিবর্তন এনেছেন জাকারবার্গ। ২০১২ সালে একশো কোটি ডলারে কিনে নেন ফটো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টাগ্রাম। ফেসবুকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৪৩টি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কিনেছে ফেসবুক যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গোয়ালা, ইনস্টাগ্রাম, লাইটবক্স ‘লিটল আই ল্যাবস’, ব্রাঞ্চ প্রভৃতি।
ফেসবুকের ব্যর্থতা
২০০৭ সালে বিকন নামে একটি সেবা চালু করেছিল ফেসবুক। থার্ড পার্টির সাইটে ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করার এই সেবাটি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক। এ ছাড়াও ফেসবুক ফোনের চেষ্টাতেও সফল হয়নি ফেসবুক।

সবকিছুতেই লাইক
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকে লাইক যুক্ত হয়। আর এই লাইক আসার পর ফেসবুকের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় হয়েছে। ফেসবুকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চারশো কোটি লাইক দেন ব্যবহারকারীরা। লাইকের পাশাপাশি এখন ডিজলাইকের জন্যও দাবি করছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।


ফেসবুক মৃত্যুশয্যায়

মার্কিন গবেষকেরা দাবি করছেন, ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পালা শুরু হয়ে গেছে। ১২০ কোটি ব্যবহারকারীর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক আর হয়তো বেশিদিন তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবে না। মার্কিন গবেষকেদের ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, ২০১৭ সাল নাগাদ ফেসবুকের জনপ্রিয়তা ৮০ শতাংশ কমে যাবে এবং এক সময় হারিয়েই যাবে মার্ক জাকারবার্গের ফেসবুক। গবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ফেসবুকের শেয়ারের দাম বাড়লেও ২০১২ সাল থেকে ফেসবুকের ডাটা ব্যবহার কমছে। এ বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ ফেসবুকের ব্যবহার ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

default-image



ফেসবুকের সব অ্যাকাউন্ট মানুষের নয়
বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। কিন্তু ফেসবুকের যত অ্যাকাউন্ট আছে, সব অ্যাকাউন্টধারীই কী বাস্তবের মানুষ? প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইমার্কেটার্সের গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, ফেসবুকে ১০ শতাংশের বেশি অ্যাকাউন্টের মালিক কোনো মানুষ নয়। ফেসবুকে ১০ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে পশু, বস্তু বা কোনো ব্র্যান্ডের নামে। আর ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন কোটি মানুষ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে গেছেন।

ফেসবুকে জাকারবার্গ চতুর্থ

সবার আগে ফেসবুক চালিয়েছেন কে? অনেকেই হয়তো ধারণা করেন যে, ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ছাড়া আর কে হবেন তিনি! কিন্তু আসলে ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে জাকারবার্গ চতুর্থ। তাহলে তাঁর আগে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন কে? আগের তিনটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল ফেসবুক পরীক্ষামূলক চালানোর জন্য। প্রথম তিনটি আইডি রাখা হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে ফেসবুক চালানোর জন্য। আর এ তালিকার চতুর্থ অ্যাকাউন্টটি জাকারবার্গের। প্রথম দশজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সবাই ছিলেন জাকারবার্গের সুপরিচিত। জাকারবার্গ ছাড়াও এই তালিকায় আছেন ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হিউজ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকারবার্গের রুমমেট আরি হাসিত। এ ছাড়াও পরিচিতদের মধ্যে ছিলেন ডাস্টিন মস্কোভিজ, অ্যান্ড্রু ম্যাককুলাম ও ক্রিস পাটনাম।

ফেসবুকের মজার তথ্য
ফেসবুক ব্যবহারকারী তরুণদের গড়ে ৩০০ জন করে বন্ধু রয়েছে। আর শতকরা ৭৫ ভাগ তরুণের সঙ্গে তাঁর অভিভাবকেরা ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রতিমাসে গড়ে অন্তত সাড়ে আট ঘণ্টা শুধু ফেসবুকেই সময় কাটান।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন