বিজ্ঞাপন

হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র বিশ্বব্যাপী কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ব্যবহারকারীর বার্তায় নজর রাখার সুযোগ করে দিলে তা প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে এনক্রিপশন সুবিধা ভেঙে দেবে এবং এতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা মানুষের ব্যক্তিগত বার্তার গোপনীয়তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং ভারতীয় আইনের মধ্যে থেকে যতটুকু পারা যায় আমরা করে যাব।’

default-image

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা খর্ব এবং অনলাইনে মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে তারা ইন্টারনেটে কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়ার প্রস্তাব করে। আর সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান লড়াইয়ের সে-ই শুরু।

হোয়াটসঅ্যাপ যে আইনটির বিরোধিতা করছে, সেটি প্রস্তাব করেন ভারতের আইন ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ। আইনটিতে বলা হয়েছে, বেআইনি মনে হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কোনো পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে পারবে ভারতীয় সরকার। সে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল এবং অন্যান্য বার্তা আদান–প্রদানের সেবা ব্যবহার করে পাঠানো সব বার্তার উৎস শনাক্ত করার পূর্ণ ডেটাবেইস ব্যবহারের সুযোগ থাকবে সরকারের হাতে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত বার্তা আর ‘ব্যক্তিগত’ রাখার সুবিধা থাকবে না তখন।

হোয়াটসঅ্যাপের সেবায় ব্যবহারকারীর তথ্যে নজরদারির সুযোগ নেই বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীদের মধ্যে পাঠানো বার্তাও তারা সংরক্ষণ করে না বলে জানিয়েছে। এন্ড-টু-এন্ড অর্থাৎ প্রেরক থেকে প্রাপকের মধ্যে এনক্রিপশন সুবিধা দেওয়ার জন্যই এমনটা করতে হয়েছে।

default-image

হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত ও কাজের জন্য যোগাযোগ করে থাকে। এদের অনেকেই আছে ভারতে।

ভারতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া বহু পোস্ট সরিয়ে ফেলতে গত মাসে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারকে নির্দেশ দেয় দেশটির সরকার। সরকারি কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, ওই পোস্টগুলো জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধা তৈরি করবে।

সরকারের নির্দেশনা মেনে পোস্টগুলো ভারতীয় ব্যবহারকারীদের নিউজফিড থেকে সরিয়ে ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে আইন ভাঙেনি বুঝতে পেরে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সরিয়ে ফেলা পোস্ট আবার ফিরিয়েও আনে প্ল্যাটফর্মগুলো।

তা ছাড়া টুইটারে সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বেশ কিছু পোস্ট ভুল বার্তা হিসেবে শনাক্ত করায় চলতি সপ্তাহে টুইটারের নয়াদিল্লির কার্যালয়ে হানা দেয় পুলিশ। টুইটারের কার্যালয় সে সময় ফাঁকা ছিল। তবে এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দায়ের করা মামলাটির ব্যাপারে হোয়াটসঅ্যাপ যুক্তি দেখিয়েছে, ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বজায় রেখে বার্তায় নজরদারির সুযোগ তৈরি করা কারিগরি দিক থেকেও সম্ভব না।

এদিকে মজিলা ও ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের মতো ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো হোয়াটসঅ্যাপের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন