default-image

এখন পর্যন্ত মানুষের বাসযোগ্য গ্রহ একটিই—পৃথিবী। এ কারণে বিকল্প বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টার অন্ত নেই। যুগ যুগ ধরে চলছে এই প্রচেষ্টা। কখনো কখনো সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করে বিজ্ঞানীরা আলোড়ন সৃষ্টি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) গত সোমবার বলেছে, পৃথিবীর অদূরেই একটি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহের খোঁজ পাওয়া গেছে।

নাসার দাবি, নতুন ওই গ্রহ পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনুলুলুতে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক বৈঠকে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি নতুন গ্রহটির সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দেয়। পৃথিবীর আকৃতির ওই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই৭০০ডি’। এটি ‘টিওআই৭০০’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।

আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার। এ হিসাবে এক বছরে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তা–ই এক আলোকবর্ষ। নাসার গ্রহ অনুসন্ধানকারী কৃত্রিম উপগ্রহ টেস (টিইএসএস) নতুন ওই গ্রহ আবিষ্কার করেছে। ২০১৮ সালে টেস উৎক্ষেপণ করা হয়। 

বিজ্ঞানীরা জানান, টিওআই৭০০ নামের ওই নক্ষত্র ও তাকে প্রদক্ষিণরত তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে টেস। এর মধ্যে টিওআই৭০০ডি নক্ষত্রটিকে এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ওই সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্বের বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দূরত্বে তরল পানির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলে দাবি করেছে নাসা।

নাসা জানায়, টিওআই৭০০ সূর্যের চেয়ে আকারে ৪০ শতাংশ ছোট। এর উত্তাপও সূর্যের তুলনায় অর্ধেক। টিওআই৭০০ডি গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে ২০ শতাংশ বড় এবং ৩৭ দিনে টিওআই৭০০ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া পৃথিবী সূর্য থেকে যে শক্তি পায়, তার ৮৬ শতাংশ শক্তি ওই গ্রহ তার নক্ষত্র থেকে পায়। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0