default-image

হোয়াইট হাউসে অভিষেকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ওভাল অফিসে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন জো বাইডেন। সে পরিবর্তনগুলোর একটি হলো, তাঁর ডেস্কের বাঁ পাশে শোভা পাচ্ছে এক টুকরা চাঁদের পাথর। বাইডেন তাঁর অফিসকক্ষের অন্দরসজ্জার অংশ হিসেবে সে চন্দ্রশিলা ধার চেয়েছিলেন।

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা আনন্দের সঙ্গেই পূরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টার। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক দুদিন আগে অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি হিউস্টন থেকে বিমানে করে নাসার দুজন কর্মকর্তা পাথরটি ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছে দেন।

চাঁদ থেকে আনা সব পাথর আলাদা করার জন্য নম্বর ব্যবহার করা হয়। বাইডেনের অফিসের চাঁদের পাথরটির পরিচিতি হলো ‘লুনার স্যাম্পল ৭৬০১৫,১৪৩’। গাঢ় ধূসর রঙের হীরার আকৃতির পাথরটির ভর ৩৩২ গ্রাম। অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমে চারদিকে কাচ দিয়ে পাথরটি আবদ্ধ করা রাখা আছে। এতে যেকোনো দিক থেকে সেটি দেখা যায়। ভেতরটা নাইট্রোজেন গ্যাসে পূর্ণ। এতে বাতাস বা আর্দ্রতা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

default-image

এবার চলুন প্রশ্ন করি, বাইডেন কেন এক টুকরা চাঁদের পাথর চাইলেন। উত্তরটি সহজ, এই এক টুকরা পাথর তাঁকে আগের প্রেসিডেন্টদের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেবে। কারণ, দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জন এফ কেনেডি হোয়াইট হাউস থেকেই প্রথম চন্দ্রাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফাস্ট কোম্পানির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেনকে পাথরটি যুক্তরাষ্ট্রকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে উৎসাহ জোগাবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জো বাইডেনের অফিসের চাঁদের পাথরটি অ্যাপোলো ১৭-এর তৃতীয় এবং সর্বশেষ অভিযানে ১৯৭২ সালের ১৩ ডিসেম্বর সংগ্রহ করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, যখন এই পাথরটি সংগ্রহ করা হয়, সে সময় জো বাইডেন ৩০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার থেকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। সংগ্রহের সময় পাথরটির ভর ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ কেজি। গবেষণার জন্য পরবর্তী সময়ে সেটিকে ভেঙে আরও টুকরা করা হয়।

ওভাল অফিসে চাঁদের পাথর রাখার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯৯ সালে চাঁদে পা রাখার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিল ক্লিনটনের জন্য অ্যাপোলো ১১ অভিযানের তিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স তাঁদের সংগ্রহ করা পাথরের টুকরা নিয়ে গিয়েছিলেন।

সূত্র: ফাস্ট কোম্পানি

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন