default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক টিম উ। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রযুক্তি এবং প্রতিযোগিতাবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলে কাজ করবেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

টিমের নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অ্যাপল, আমাজন, গুগল ও ফেসবুকের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও ক্ষমতার সমালোচকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। আর নির্বাচনী প্রচারণায় বাইডেন বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য কাজ করবেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অসম প্রতিযোগিতাবিষয়ক আইনের সংস্কারের পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা কমানোর ব্যাপারে হয়তো উদ্যোগ নেবে বাইডেন প্রশাসন।

মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি খড়্গহস্ত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামলে গত বছরের শেষ দিকে ফেসবুক এবং গুগলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ে অসদাচরণের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। এদিকে আমাজন ও অ্যাপলের বিরুদ্ধে অসম প্রতিযোগীর অভিযোগ নিয়ে এখনো তদন্ত হচ্ছে।

তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো এবং মার্কিন আইনের অনুচ্ছেদ ২৩০ নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। অনুচ্ছেদটির বিষয়বস্তু হলো, ফেসবুক-টুইটারের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর অবৈধ পোস্টের জন্য কেবল ওই ব্যবহারকারীকেই দায়ী করা যাবে, প্ল্যাটফর্মকে নয়। গত বছরের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পরিষদে বাইডেন বলেছিলেন, অনুচ্ছেদ ২৩০ এখনই বাতিল করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্যবসায়ে অসদাচরণ এবং অসম প্রতিযোগীবিষয়ক আইনগুলোর বিরোধিতা করে আসছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। আইনগুলো বাতিলের জন্য ওয়াশিংটনে দেনদরবার চালাচ্ছে নিয়মিত।

ক্ষমতার বণ্টনে সব সময় সোচ্চার

অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে অত্যধিক ক্ষমতা থাকার পরিণতি নিয়ে সব সময়ই সতর্ক করেছেন টিম উ। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য কার্স অব বিগনেস: অ্যান্টিট্রাস্ট ইন দ্য নিউ গিল্ডেড এইজ’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তীব্র অর্থনৈতিক কেন্দ্রীকরণের ফল স্থূল বৈষম্য এবং পার্থিব ক্ষতি, যা জাতীয়তাবাদী এবং চরমপন্থী নেতৃত্বের চাহিদা পূরণ করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে গুগল, ফেসবুক ও আমাজনের অত্যধিক ক্ষমতা।’

এর আগে বেশ কয়েকবার শিক্ষকতা ছেড়ে সরকারের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন টিম। ২০১১ ও ২০১২ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশনে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর ওবামা প্রশাসনে ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলে প্রতিযোগিতাবিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নেও কাজ করেছেন তিনি। ‘নেট নিউট্রালিটি’ শব্দ দুটি প্রচলনের জন্যও পরিচিত টিম উ। ইন্টারনেটে সব কনটেন্টে সবার সমঅধিকার নিশ্চিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন