বৈশ্বিক তথ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন
default-image

বৈশ্বিক তথ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড তৈরিতে একটি উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। আজ মঙ্গলবার দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যখন নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ অন্যদের ওপর নিপীড়ন করছে ও কোম্পানিগুলোকে শিকার করছে, তখন তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা বহুপক্ষীয় উদ্যোগটিকে প্রচার করতে চায়। চীনের চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং উই এ ঘোষণা দেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা অ্যাপের ওপর অবিশ্বস্ততার অভিযোগ তুলে ‘ক্লিন নেটওয়ার্ক’ কর্মসূচি নেওয়ার মাস খানেক পরে ওয়াং উইয়ের নতুন উদ্যোগের ঘোষণা সামনে এল।

চীনা উদ্যোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথাকথিত ‘ব্যাকডোর’ বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ব্যাকডোর রাখলে অবৈধভাবে তথ্য তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই এ ব্যাকডোর বন্ধ করার পাশাপাশি উদ্যোগে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতি অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব, এখতিয়ার এবং ডেটা পরিচালনার অধিকারকে সম্মান দেখানোর বিষয়টি রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদ্যোগে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে অন্য দেশের ক্ষেত্রে ব্যাপক নজরদারি বা ভিনদেশের নাগরিক সম্পর্কে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

চীনের এই উদ্যোগের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া এতে কোন কোন দেশ যুক্ত হয়েছে, তাও জানানো হয়নি।

ওয়াং বলেন, বৈশ্বিক তথ্য নিরাপত্তার নিয়মগুলোর ক্ষেত্রে যাতে সব দেশের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে এবং সব পক্ষের স্বার্থকে সম্মান করে সব পক্ষের সর্বজনীন অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পৌঁছানো যায়, তা দেখতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট দেশ আগ্রাসীভাবে একতরফা নীতি অনুসরণ করছে এবং অন্য দেশের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

নিরাপত্তার অজুহাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে শিকার করছে। এই নোংরা নিপীড়নের বিরোধিতা করে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীন অবশ্য নিজে অত্যন্ত কঠোরভাবে সাইবার দুনিয়া সেন্সর করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। এ পদ্ধতি ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ নামে সুপরিচিত। চীনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টুইটার, ফেসবুক, গুগল নিষিদ্ধ হয়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে, টেনসেন্ট ও টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সকে লক্ষ্য করে কঠোর নীতি নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। অবশ্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই বাইটড্যান্সের টিকটক তাদের যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনা কর্মকাণ্ড বিক্রি না করলে নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন