default-image

বেতন ও নিয়োগ–বৈষম্যের শিকার সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী ও কর্মপ্রত্যাশীদের মোট ২৫ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে গুগল। মার্কিন শ্রম বিভাগের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগ নিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে মূলত দুই ধরনের লিঙ্গবৈষম্যের প্রমাণ খুঁজে পায় মার্কিন শ্রম বিভাগ। প্রথমত, পুরুষদের তুলনায় নারী সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের বেতন কম দেওয়া হতো। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বেলায় নারী প্রার্থীরা সমান সুযোগ পেতেন না। পিছিয়ে থাকতেন এশীয় প্রার্থীরাও।

মীমাংসার অংশ হিসেবে ২ হাজার ৫৬৫ নারী সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে সুদসহ বকেয়া বেতন হিসেবে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫২ ডলার দেবে গুগল। সে সঙ্গে সফটওয়্যার প্রকৌশলী পদে চাকরিবঞ্চিত ১ হাজার ৭৫৭ জন নারী এবং ১ হাজার ২১৯ জন এশীয় প্রার্থীকে সুদসহ মোট ১২ লাখ ৩২ হাজার ডলার বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে। এদিকে আয়সমতার বিষয়টি মিটমাট করতে গুগল আরও ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার আলাদা করে রাখবে। এই হিসাব কেবল যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের মাউন্টেন ভিউ, সিয়াটল, কার্কল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক কার্যালয়ের। যুক্তরাষ্ট্রের গুগলের প্রকৌশলীদের কেবল ৫০ শতাংশ এই কার্যালয়গুলোতে কাজ করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন শ্রম বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

গুগলের কর্মী ও ব্যবস্থাপনাদলের মধ্যে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর এমন খবর মিলল। এর আগে যৌন হয়রানির ‘নিষ্পত্তি’র প্রতিবাদ জানাতে ২০১৮ সালে গুগলের ২০ হাজারের বেশি কর্মী কর্মক্ষেত্র ছেড়ে বেরিয়ে যান। আর এ বছরের শুরুতে প্রায় ২৩০ জন স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী সংখ্যালঘু সংঘ গঠন করেন। অ্যালফাবেট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নামের সংঘটির সদস্যসংখ্যা এখন ৮০০। তারা অবশ্য বিশেষভাবে চায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এতে যোগ দিক। কারণ স্থায়ী ও পূর্ণকালীন কর্মীদের মতো উচ্চ বেতন-ভাতা থেকে তাঁরা প্রায়ই বঞ্চিত হন।

দ্য ভার্জকে পাঠানো এক বিবৃতিতে গুগলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কাজ অনুযায়ী একজন কর্মীকে বেতন পরিশোধ করা উচিত। তিনি কে, তা এখানে বিবেচ্য না। নিয়োগ ও বেতন-ভাতা পরিশোধে কোনো বৈষম্য যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করি। বৈষম্য শনাক্ত ও সমাধান করতে আট বছর ধরে আমরা নিয়মিত অভ্যন্তরীণ আয়সমতার বিশ্লেষণ করে আসছি। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৈষম্যের নিষ্পত্তি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন