default-image

কারা বেশি বেশি ফেসবুকে সক্রিয় থাকেন? এ প্রশ্নটির সহজ উত্তর হচ্ছে যাঁদের মনে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় বেশি কাজ করে অর্থাৎ যাঁরা সম্পর্ক নিয়ে অনিরাপদ বোধ করেন, তাঁরাই ফেসবুক ছেড়ে উঠতে চান না। এ তথ্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা দাবি করেছেন, যাঁরা সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাঁরা ফেসবুকে সক্রিয় থেকে নিয়মিত ওয়ালে পোস্ট দেন, মন্তব্য করেন, স্ট্যাটাস হালনাগাদ করেন বা কারও পোস্টে লাইক দেন আর এসব করেন কেবল মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যই।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন কলেজের গবেষকেরা ১৮ থেকে ৮৩ বছর বয়সী ৬০০ জনকে নিয়ে একটি গবেষণা চালান, যেখানে সম্পর্ক ও ফেসবুক ব্যবহারের ধরনটি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকে দুই ধরনের সক্রিয় ব্যবহারকারীর দেখা মেলে। এর মধ্যে একদল হচ্ছে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তগ্রস্ত আরেক দল হচ্ছে যাঁরা অতিরিক্ত বর্হিমুখী আচরণ করেন।
যাঁরা সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় কাটান তাঁদের ফেসবুকে বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। কারণ, তাঁরা মনে করেন সক্রিয় না থাকলে তাঁরা আর পাত্তা পাবেন না। এ জন্য তাঁরা ফেসবুকে নানা ধরনের পোস্ট করে ‘ফিডব্যাক’ বা প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টায় থাকেন।
পার্সোনালিটি অ্যান্ড ইনডিভিজুয়াল ডিফারেন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা-সংক্রান্ত নিবন্ধ।
গবেষকেরা বলছেন, সম্পর্ক বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্তদের বেশি মাত্রায় নিশ্চিন্ত হওয়া জরুরি বোধ হয় এবং নিজের সম্পর্কে অন্যদের মতামতের বিষয়টি তাঁদের কাছে স্পর্শকাতর বিষয় হয় বলে ফেসবুকের বেশি সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করেন।
গবেষক জশুয়া হার্ট জানিয়েছেন, সম্পর্ক নিয়ে নিরাপদ বোধ করা মানুষের চেয়ে সম্পর্ক নিয়ে সংশয়গ্রস্তরা প্রতিক্রিয়া কাতর হন। তাঁরা যখন বেশি মন্তব্য, লাইকসহ অন্যান্য ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া পান তখন তাদের বেশি ভালো লাগে। কিন্তু ফেসবুকের পোস্টে যখন ফিডব্যাক কম আসে তখন তাদের অনুভূতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
অবশ্য যাঁরা বহির্মুখী স্বভাবের তাদের ফেসবুকে বেশি সক্রিয় থাকার কারণ সংশয়গ্রস্তদের চেয়ে আলাদা। তাঁরা ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়ে ইতিবাচক মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তবে তাঁদের ফেসবুকে সক্রিয়তার কারণ বিশদভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। (পিটিআই)

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন