default-image

একে তো ঘরবন্দীকাল, তার ওপর উৎসব। ফলে খাওয়া–দাওয়া তো একটু আয়েসি, একটু জমজমাট হতেই পারে। আবার ছোটাছুটির বিষয় না থাকায় শরীরে ঢুকে পড়া বাড়তি ক্যালরি পোড়ানোর কোনো বুদ্ধিও নেই। এদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের ঝুঁকির তালিকায় নতুন ঝুঁকি সংযুক্ত হয়েছে। আর তা হলো—একবারে বেশি পরিমাণে সম্পৃক্ত চর্বি খেলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোযোগ কমায়।

বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ক পত্রিকা সায়েন্সডেইলির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি এক দল গবেষক ৫১ জন নারীর ওপর একটি গবেষণা চালান। এতে অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত তেলে তৈরি খাবার আলাদাভাবে খেতে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়।

এতে দেখা যায়, অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণকারী নারীরা অন্যদের চেয়ে ভালো করছেন। অর্থাৎ, চর্বির ধরনের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে মস্তিষ্কের।

গবেষকেরা রক্তের সঙ্গে অন্ত্রীয় ব্যাকটেরিয়া মিশে গেলে মনোযোগ প্রভাবিত হয় কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখেন। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাদের শারীরিক অবস্থা এমন যে, তাদের শরীরের অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া রক্তের সঙ্গে মিশছে, তাদের মনোযোগ অন্যদের তুলনায় কম। এ ক্ষেত্রে যেকোনো খাবার গ্রহণের পরই তাঁদের এই মনোযোগ হারানোর ঘটনাটি ঘটে।

এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলকে অনেক বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন গবেষকেরা। এ সম্পর্কিত গবেষণা নিবন্ধটি আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের স্নাতক এবং এই গবেষক দলের নেতা অ্যানেলাইস ম্যাডিসন বলেন, 'অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের গবেষণায় খাদ্যাভ্যাসের দিকে তাকানো হয়। একবার বা দুবার গ্রহণ করা খাবারকে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ধরে নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এই গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে, তা মাত্র একবার গ্রহণ করা খাবারের ভিত্তিতেই। এটি বিরাট এক ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে অসম্পৃক্ত তেল হিসেবে ব্যবহার করা সূর্যমুখী তেলেও এমনকি বেশ ভালো মাত্রার চর্বি রয়েছে। তাই কম পরিমাণে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এ ক্ষেত্রে আরও ভালো ফল দিতে পারে।'

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন