default-image

বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতের অগ্রগতির কথা এখন অনেকেই জানেন। দেশি অনেক প্রতিষ্ঠান এ খাতে সফলভাবে স্থানীয় ও বিদেশি বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দেশের সম্ভাবনাময় খাতটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও চলছে। গতকাল শেষ হওয়া সফটএক্সপো ২০২০ মেলা এই খাতের ইতিবাচক দিকটিই তুলে ধরল।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত চার দিনের এ মেলার আয়োজক ছিল সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। গতকাল রোববার মেলার সমাপনী দিনেও মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় করেন আগ্রহী দর্শনার্থীরা। মেলার আয়োজকেরা বলছেন, এবারের মেলা শুরু থেকেই ছিল দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতিকে সামনে তুলে ধরার আয়োজন। শেষ দিনে এসে তার পূর্ণতা পেয়েছে।
রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযাগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের সফটওয়্যার রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলারে নিয়ে যেতে সরকার ও বেসরকারি খাত হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে। এ ছাড়া আইসিটি খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ এইচ কাফি এবং লিডস করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আব্দুল আজিজকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও পুরস্কার দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে উইমেন জোন থেকে সেরা প্রদর্শকের পুরস্কার পেয়েছে এলিগেন্ট টেকনোলজি।

সফটএক্সপোর সেরা প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে এসএসএল কমার্জ, দ্বিতীয় মীর ক্লাউড এবং তৃতীয় আইসিসি টেলিসার্ভিসেস। সেরা মিনি প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে রেড ডট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে আম্বালা আইটি ও টিকন সিস্টেম লিমিটেড। সেরা স্টল এক্সপ্রেস হাব এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক নেট ও বইঘর। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।

‘উদ্ভাবনের মাধ্যমে জীবনযাপনের রূপান্তর’ স্লোগানে বেসিস সফটএক্সপোর এটি ছিল ১৬তম আসর। এবার বড় আকর্ষণ ছিল ৩০টির বেশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনার।

সফটএক্সপোর আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এবারের মেলার অর্জন অনেক। মেলায় সাড়ে ৪ লাখের বেশি দর্শক এসেছেন।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারহানা এ রহমান বলেন, এবারে অ্যাপসে নিবন্ধন করেছেন ৪২ হাজারের বেশি দর্শক। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা উদ্ভাবন ও সেবা ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল লক্ষ্য করার মতো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0