default-image

মুখের ভেতরে যেসব ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব থাকে, সেগুলো মানুষের জীবনযাপনের ধরন নয় বরং বংশগতির ধারক বা জিনের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল। আর ওই ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ করে একজন মানুষের জাতিগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয় সম্ভব বলে দাবি করছেন মার্কিন গবেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির (ওএসইউ) গবেষকেরা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, ককেশীয়, লাতিন ও চীনা—এই চার জাতিসত্তার ১০০ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালান। তাঁদের মুখ থেকে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করা হয়। এসব ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ সবার মুখেই ছিল। আর আট শতাংশ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ মানুষের মুখে।

গবেষকেরা আরও দেখতে পান, একই জাতিসত্তার মানুষের মুখে নির্দিষ্ট ধরনের কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে। বিশেষ করে, মুখের মাড়ির অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এ ধরনের মিল বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া একই পরিবেশে বসবাসের কারণে নয়, বরং জিনগত সাদৃশ্য অনুযায়ী মানুষের মুখে নির্দিষ্ট ধরনের কিছু ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য অণুজীব বিস্তার লাভ করে। মানুষের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাকটেরিয়া থাকে।

উল্লিখিত গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এটি ব্যবহার করে একজন মানুষের মুখের মাড়ির কাছে থাকা ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁর জাতিগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা যাবে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই জাতিগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের এই পদ্ধতি ৬২ শতাংশ সঠিক ফলাফল দিতে পেরেছে। আর কেবল আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিনদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে শতভাগ সাফল্য এসেছে। তবে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে পদ্ধতিটির এতটা সফল হয়নি। 

সংশ্লিষ্ট গবেষক এবং ওএসইউ ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক পূর্ণিমা কুমার বলেন, মানুষের মুখে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া সুনির্দিষ্ট জিনের ওপর নির্ভর করে। আর কোনো ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকবে কি না, সেটা নির্ভর করে ব্যক্তির খাদ্যাভাস ও জীবনযাপনের ধরনের ওপর। পপুলার সায়েন্স।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন