default-image

ইন্ডিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ১২ স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশের পেছনে অ্যাপলের ব্যয় আনুমানিক ৪০৬ ডলার। অথচ সেগুলোর প্রতিটি বিক্রি করা হয় ৯৯৯ ডলার দরে। ব্যবধানের পুরোটাই তো আর অ্যাপলের মুনাফা নয়। এখানে গবেষণার ব্যয় আছে, বিপণনের ব্যয় আছে, সফটওয়্যার তৈরির খরচ আছে, সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অ্যাপলের যত খরচ, তার সবটাই পণ্যের দামে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে আইফোনের বেশি মূল্যের পেছনে যে পাঁচটি কারণ মুখ্য, সেগুলো এখানে দেওয়া হলো।

default-image

১. অ্যাপলের পণ্য মানে বিলাসবস্তু

সম্ভাব্য ক্রেতা নির্বাচনে অ্যাপলের লক্ষ্য কেবল উচ্চবিত্তরা, তা বলার সুযোগ নেই। তবে অ্যাপলের তৈরি পণ্যে একটা ‘প্রিমিয়াম’ ভাব আছে। যিনি আইফোনের মতো অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করেন, তিনি ওই জীবনধারায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এখন সবাই যদি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন, তবে ‘অনন্য’ শব্দটি ব্যবহারের সুযোগ আর থাকল কই! অ্যাপলের পণ্যগুলোর দাম বেশি হওয়ার সেটি অন্যতম কারণ। এমনকি অ্যাপলের তুলনামূলক কম দামের আইফোন এসই বাজারে আসার সময় সেটির দামও ৫০ হাজার টাকার কম ছিল না।

default-image

২. গবেষণা ও উন্নয়নে বড় ব্যয়

আইফোনের সবকিছুই একদম গোড়া থেকে শুরু করে অ্যাপল। অন্যান্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে কোনো সুবিধা আগে থেকে থাকলেও সেটি আইফোনে যোগ করার আগে শতবার পরীক্ষা চালানো হয়। আইফোনে কোনো সুবিধা যোগ করার আগে নিজেদের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করে অ্যাপল। এরপর নিশ্চিত করে সেটি অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গবেষণা ও উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বলেই দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও শীর্ষ তিন স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের একটি অ্যাপল। আর বিশাল অঙ্কের ব্যয় শেষমেশ আইফোনের মূল্যবৃদ্ধির একটা অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

৩. অ্যাপল ইকোসিস্টেমের অংশ

অ্যাপলের পণ্যগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি নির্বিঘ্নে কাজ করে। যেমন আইপ্যাডে কোনো ওয়েবসাইটে নিবন্ধ পড়ার সময় ব্যবহারকারী চাইলেই সে নিবন্ধ তাঁর আইফোনেও পড়তে পারেন। আর কেবল হার্ডওয়্যার নয়, সফটওয়্যারও সহজে মানিয়ে নিতে পারে। আইফোন, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ, আইপ্যাড, আইটিউনস—সবকিছুই একটির সঙ্গে আরেকটি সহজে যুক্ত হতে পারে। ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান–প্রদানও সহজ। অ্যান্ড্রয়েড আর উইন্ডোজ ইকোসিস্টেমে এই সুবিধা দুর্লভ। সে কারণেই হয়তো তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীরা অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

৪. ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যার

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে গুগল। স্মার্টফোন উৎপাদনকারীরা গুগলের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেন। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের খরচ একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টনের সুযোগ আছে। অন্যদিকে আইফোনের আইওএস অপারেটিং সিস্টেম কেবল অ্যাপল ব্যবহার করে। এর সবকিছুই অ্যাপলের তৈরি। অর্থাৎ, সফটওয়্যার তৈরির খরচ পুরোটাই অ্যাপলকে বহন করতে হয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টনের সুযোগ নেই। সেটা একটা দিক গেল। আরেকটি ব্যাপার হলো, যাঁরা একবার আইফোন ব্যবহার শুরু করেন, তাঁরা নাকি কখনো ছাড়তে পারেন না। কারণ, আইওএস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারবান্ধব করে তুলতে গবেষণা ও উন্নয়নে প্রচুর ব্যয় করে অ্যাপল। দিন শেষে সে ব্যয় প্রতিটি আইফোনের ওপর বর্তায়।

default-image

৫. বিশ্বব্যাপী অ্যাপল স্টোর

অ্যাপলের পণ্য গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দোকানগুলোকে অ্যাপল স্টোর বলা হয়। বাংলাদেশে না থাকলেও বিশ্বব্যাপী চমৎকার সব অ্যাপল স্টোর রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলোর অবস্থান শহরের সেরা জায়গায়। সেগুলোর স্থাপত্যকলাও চমৎকার। অ্যাপল স্টোরে প্রচুর বিনিয়োগ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সে বিনিয়োগের টাকা কে দেন? ওই গ্রাহক।

default-image

এর বাইরেও অনেক ধরনের ব্যয় মেটাতে হয় অ্যাপলকে। যেমন কোনো দেশের আদালত যদি অ্যাপলের ওপর জরিমানা ধার্য করেন, তবে সে খরচও গড়ে পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। আবার দেশ ভেদে শুল্ক ও করের হিসাবও মাথায় রাখতে হয়। বিপণনে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে অ্যাপল। তা ছাড়া আইফোনের যন্ত্রাংশ যেমন বেশ উচ্চমানের, তেমনই সেগুলো তৈরির মজুরিও আছে। আর সব খরচ বাদ দিলে বাকিটা অ্যাপলের লাভের অংশ।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন