default-image

করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে এর নানা চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকেরা এ ভাইরাসটি সম্পর্কে বেশ কিছু নতুন তথ‌্য জানতে পেরেছেন, যা এর চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে। সম্প্রতি লামা থেকে পাওয়া ন‌্যানোবডি সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির জন‌্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি অন‌্য করোনাভাইরাসের তুলনায় বেশি সংক্রামক ও ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে মারাত্মক অসুস্থতা সৃষ্টির জন‌্য দায়ী। মানবকোষে ভাইরাসটি প্রবেশের পূর্বরূপ হিসেবে স্পাইক প্রোটিনের সার্স-কোভ-২ রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেন (আরবিডি) মানব অ্যাঞ্জিওটেনসিন-রূপান্তরকারী এনজাইম২ (এসিই ২) রিসেপ্টারের সঙ্গে আবদ্ধ হয়। গবেষকেরা এ ক্ষেত্রে লামার অ‌্যান্টবডি ব‌্যবহার করে কোভিড-১৯ কে নিষ্ক্রিয় করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন।

‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লামা অ‌্যান্টিবডি ব‌্যবহার করে গবেষকেরা দুই ধরনের ন‌্যানোবডি তৈরি করেছেন। এ দুটি হচ্ছে এইচ১১-ডি৪ ও এইচ১১-এইচ ৪। এ দুটি ন‌্যানোবডি আরবিডিকে বেঁধে রাখে এবং এসিই২ এর সঙ্গে মিশতে দেয় না। এতে কোভিড-১৯ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

গবেষকেরা দাবি করেছেন, লামার উভয় ন্যানোবডি সক্রিয় কোভিড-১৯ কে নিরপেক্ষ করার পরীক্ষায় সফল হয়েছে এবং মানব অ্যান্টিবডিটির সঙ্গে মিলিত হওয়ার সময় বিশেষ উচ্চ ক্ষমতা এবং নিরপেক্ষতার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

গবেষণা–সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘নেটার স্টাকচারাল অ‌্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি’ সাময়িকীতে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা লামার বিশেষভাবে বিকশিত অ্যান্টিবডি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর চিকিত্সা করার জন্য ব্যবহার করেছেন। তাঁদের তৈরি কোভিড-নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ককটেল কয়েক মাসের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেতে পারে।

গবেষকেরা বলেন, লামার অ‌্যান্টিবডিতে প্রকৌশল প্রয়োগ করা যায়। এর অ্যান্টিবডি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং মানুষের রক্তের অ্যান্টিবডির চেয়ে অনেক সহজভাবে কাঠামোযুক্ত। তাই পরীক্ষাগারে নতুন নকশা করা যায়।

গবেষকেরা বলছেন, লামার রক্ত নিয়ে প্রথমে ভাইরাসের সঙ্গে দুর্বল বন্ধনযুক্ত অ‌্যান্টিবডি বের করা হয়। এখান থেকে কৌশলে শক্তিশালী ন‌্যানোবডি তৈরি করা হয়। এ ন‌্যানোবডি করোনাভাইরাসের স্পাইককে আটকে দিতে পারে। এতে মানবশরীরে ভাইরাস যেতে পারে না এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের গবেষক জেমস নায়েসিথ লিখেছেন, ‘যদিও বর্তমানে এই রোগের নিরাময়ে টিকা বা ভ্যাকসিন নেই; তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে প‌্যাসিভ ইমিউনথেরাপি দিয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করতে এমনকি রোগের শেষ ধাপের ক্ষেত্রেও থেরাপি হিসেবে এটা ব‌্যবহার করা যেতে পারে। কোভিড-১৯–এর গুরুতর অসুস্থ রোগীদের পরোক্ষ প্রতিরোধব‌্যবস্থা হিসেবে লামা থেকে উদ্ভূত অ‌্যান্টিবডি থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন