বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় সংসদ অনেক বছর ধরেই সব গ্যাজেটে এক চার্জার ব্যবহারের কথা বলছে। এবার আইন করে অঞ্চলটির ২৭ দেশে তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। আইনটি পাস হলে সব ফোন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করার জন্য প্রমিত মান হিসেবে ব্যবহার করা হবে ইউএসবি টাইপ-সি (সংক্ষেপে ইউএসবি-সি) কানেক্টর। ইউরোপীয় সংসদে যুক্তিতর্ক শেষে প্রস্তাবটি আইন হিসেবে গৃহীত হবে। তখন নিয়ম মানার জন্য ডিভাইস নির্মাতারা সর্বোচ্চ ২৪ মাস সময় পাবেন।

‘রেডিও ইকুইপমেন্ট ডিরেক্টিভ’ নামের প্রস্তাবে চার্জার ছাড়াই ডিভাইস বিক্রির কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ ইউএসবি-সি চার্জার আলাদা করে কিনে নিলে সেটি দিয়ে স্মার্টফোন-ট্যাব থেকে শুরু করে ক্যামেরা, ভিডিও গেম কনসোল, স্পিকার, হেডফোনের মতো ডিভাইসগুলো চার্জার দেওয়া যাবে।

default-image

ইউএসবি-সি কী

ইউএসবির পূর্ণরূপ ‘ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস’। স্বল্প দূরত্বে ডিজিটাল ডেটা স্থানান্তরের প্রমিত মান বলা চলে। আর সেই মানের নতুন সংস্করণ হলো ইউএসবি-সি। নকশা প্রতিসম হওয়ায় যেকোনো দিকে ঢোকানো যায়। তা ছাড়া এক কেব্‌ল একসঙ্গে ডেটা, অডিও, ভিডিও এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী। বাজারে নতুন স্মার্টফোনগুলোতে এখন ইউএসবি-সি ব্যবহারের চল বেড়েছে। আইফোনে না হোক, অ্যাপলের ল্যাপটপ এবং আইপ্যাড এরই মধ্যে ইউএসবি-সি সমর্থন করে।

এতে অ্যাপলের ক্ষতি হবে কেন

আইফোন চার্জ করার জন্য লাইটনিং কানেক্টরের ওপর নির্ভর করে অ্যাপল। ২০১২ সালে সেই যে আইফোন ৫-এর সঙ্গে চার্জিং কানেক্টরটি বাজারে আসে, আজও অ্যাপল তা থেকে সরে আসেনি। অন্তত আইফোনের জন্য তো বটেই। কারণ, আইপ্যাড এয়ার ৪ এবং ম্যাকবুকের সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোতে ইউএসবি-সি পোর্ট ব্যবহার করছে অ্যাপল। তবে সাম্প্রতিকতম আইফোন ১৩ সিরিজে এখনো লাইটনিং পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে।

default-image

ইউরোপীয় কমিশনের সব ফোনে এক চার্জার ব্যবহারের প্রস্তাব যদি পাস হয়, তবে স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস ও শাওমির তুলনায় ক্ষতি বেশি হবে অ্যাপলের। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য বিরোধিতার পেছনে কারণ যে নেই, তা-ও তো নয়।

আইফোন থেকে লাইটনিং কানেক্টর বাদ দিলে অ্যাকসেসরিজের লোভনীয় ব্যবসা অ্যাপলের হাতছাড়া হয়ে যাবে। তখন যেকোনো ইউএসবি-সি চার্জার দিয়ে আইফোন চার্জ করা যাবে, লাইটনিং কানেক্টরের অ্যাকসেসরিজের প্রয়োজন হবে না। তাতে কেবল অ্যাপল নয়, আইফোনের অ্যাকসেসরিজ নির্মাতাদের পাশাপাশি গ্রাহকও সাময়িক সমস্যার মুখে পড়বেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবে অ্যাপল বারবার আপত্তি জানিয়েছে। যুক্তি দেখিয়েছে, এতে ‘উদ্ভাবন’ ব্যাহত হবে এবং গ্রাহকদের যদি নতুন চার্জার কিনতে বাধ্য করা হয়, তবে ই-বর্জ্যের পাহাড় জমে যাবে।

default-image

এবার অ্যাপল কী করবে

অ্যাপলের জন্য ইউরোপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন পণ্য তৈরি করে না তারা। সেদিক থেকে দেখলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে অ্যাপলের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। এক. আইফোনে ইউএসবি-সি পোর্ট যুক্ত করা। দুই. পোর্টবিহীন আইফোন তৈরি করা।

বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে অ্যাপল সম্পূর্ণ তারহীন চার্জিং প্রযুক্তির পথে এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে সে নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে বলেও উড়ো খবর শোনা যাচ্ছে। এদিকে অ্যাপলকে পথপ্রদর্শকও বলা হয়। আইফোনে হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তা অনুসরণ করেছে। কে জানে, এবারও অ্যাপল শুরু করলে হয়তো দেখা যাবে সবাই তারহীন চার্জারের পথেই হাঁটবে।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন