সেলফি-জ্বরে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। সেলফি তোলার বয়স নেই, জায়গা নেই, সময় নেই। যে যেমন খুশি যেকোনো জায়গায় তুলতে পারেন ইচ্ছেমতো সেলফি! এ সময়ের সেলফি বলতে যা বোঝায়, সেটি অস্ট্রেলিয়ার একটি অনলাইন ফোরাম সর্বপ্রথম ব্যবহার করে ২০০২ সালে। এরপর বিষয়টির জনপ্রিয়তা এতটাই ঊর্ধ্বমুখী, ২০১৩ সালে স্থান পায় অক্সফোর্ড অভিধানেও। চলতি বছরই সেরা ১০ জনপ্রিয় শব্দের একটি হলো সেলফি। ভালো সেলফি তোলার কতটুকু আমরা জানি?  সেলফি তোলার সহায়ক প্রযুক্তি যেমন আছে, তেমনি আছে অ্যাপস—আর জানতে হবে কিছু কৌশল। 

default-image

সেলফির প্রযুক্তি
সেলফি সমভ্রেরেরো
‘সমভ্রেরেরো’ মূলত মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী হ্যাট। ‘সেলফি সমভ্রেরেরো’ প্রযুক্তিটা হ্যাটের মতোই। হ্যাটের প্রান্তে যুক্ত থাকবে ট্যাবলেট কম্পিউটার। এটি তৈরি করেছে এসার। ডিজাইনার ক্রিস্টিয়ান কাওয়ান-সানলুইস। সেলফি সমভ্রেরেরো ডিজাইনে মূলত লেডি গাগার গোলাপি-চকমকে জ্যাকেটের (ট্যাক্সিডো) কথা মাথায় রাখা হয়েছে। হ্যাটে যুক্ত থাকবে এসারের নতুন ট্যাবলেট ‘আইকোনিয়া এওয়ান-৮৪০’। হ্যাটটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো যাবে। এতে করে যেকোনো প্রান্ত থেকে সেলফি তোলা যাবে। তবে এই হ্যাট এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ‘সেলফি ব্রাশ’-এর মাধ্যমে তুলতে পারেন ছবি।
ড্রোন
ড্রোন (মানববিহীন বিমান) এবার ব্যবহৃত হবে সেলফিতে। একে বলা হচ্ছে ড্রোন সেলফি বা ড্রোনি। অতি উন্নত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ‘ট্যুরিজম নিউজিল্যান্ড’। নিউজিল্যান্ডের ছয়টি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের সেলফি তুলতে সংস্থাটি ব্যবহার করছে এ ড্রোন। উড়ে উড়ে শুধু পর্যটকের ছবি নয়, আট সেকেন্ডের এইচডি ভিডিও ফুটেজও ধারণ করছে ড্রোন। এরপর সেই ফুটেজ এসএমএস কিংবা মেইল করে দেওয়া হচ্ছে পর্যটকের কাছে।
লেন্স-স্টাইল ক্যামেরা

সেলফিপিয়াসীদের জন্য এ প্রযুক্তিটি বাজারে এনেছে সনি। স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত লেন্স-স্টাইল ক্যামেরার মাধ্যমে দারুণ সব সেলফি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। এর অসাধারণ জুমিং ক্ষমতা সহায়তা করবে নিখুঁত সেলফি তুলতে। এ প্রযুক্তি মিলবে ক্যাসিওর নতুন ইএক্স-এফআর ১০ ক্যামেরাতেও। 

সেলফির জন্য আলো

সেলফির কোনো জায়গা নেই, কোনো সময় নেই! কিন্তু ভালো ছবির জন্য দরকার যথেষ্ট আলো। সেলফির চাহিদা মেনে সব জায়গায় তো আলো মিলবে না! তবে কি ভালো সেলফি হবে না? হবে। আলোর সমাধান দিয়েছে ‘লুমি’। এটি মূলত একটি কেস, যেখানে সংযুক্ত রয়েছে এলইডি বাতি। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন, আইপ্যাড ও অন্যান্য ট্যাবলেটে। 

ভালো সেলফির ১০ পরামর্শ

l  নিজেকে ভালোভাবে ঠিকঠাক দেখে নিন। এটা ঠিক, ভালো না হলে ফোন বা ট্যাবলেট থেকে ছবি সহজেই মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু ভালো সেলফির জন্য মুখাবয়ব কিংবা চুল এলোমেলো রয়েছে কি না দেখে নিন।

l  ভালো সেলফির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আলো। খুব সেজেগুজে, ঝকমকে পোশাকে ছবি তুলেছেন। কেবল ভালো আলোর অভাবে ছবিতে সে ঔজ্জ্বল্য নাও আসতে পারে। 

l  পটভূমি ও আশপাশে কী আছে, সেটা দেখে নিতে হবে।

l  নড়াচড়া করা যাবে না। যে হাতে ফোন ধরা থাকবে সেটির অবস্থান এমন না হয়, যা ছবিতে উঠে আসে।

l  প্রথম সেলফিতে ভালো ছবি হবে, তা নয়। একাধিক সেলফি তোলার ধৈর্য থাকতে হবে। 

l  আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। লজ্জা বা সংকোচ করলে চলবে না।

l  নিজের ইচ্ছেমতো ছবি সম্পাদনা করা যেতে পারে।

l  এমন কোনো অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুললেন, সবার মুখ এসেছে অথচ নিজের মুখের অর্ধেকটা নেই! ফলে সুবিধামতো কোণ থেকে ছবি তুলতে হবে।

l  থমথমে পাথুরে মুখে নয় বরং হাসিখুশি কিংবা ইচ্ছেমতো ভঙ্গিতে সেলফি তুলুন।

l  তোলার আগে ছবিটা একবার দেখে নিন। স্মার্টফোনে তা সহজে দেখা যায়। ভালো লাগলে তবেই তুলুন।

default-image

কিছু অ্যাপস
আইফোনের জন্য
সেলফি ক্যাম: ফ্রন্ট ক্যামেরার অনুপস্থিতিতে সেলফি ক্যাম খুবই প্রয়োজনীয় অ্যাপ। ছবিতে ইচ্ছেমতো শব্দ বসানো যায়। ঠিকানা: http://goo.gl/5XXZCA
সেলফি ফটো এডিটর:  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবিকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে এ অ্যাপটি খুবই জরুরি। ঠিকানা: http://goo.gl/j7q5aG
দ্য মোমেন্ট ক্যাম: সেলফিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হলে এ অ্যাপ লাগবে। ছবিতে ইমোটিকন কিংবা কাল্পনিক দৃশ্য যোগ করা যায়। ঠিকানা: http://goo.gl/qiTm6G
অ্যান্ড্রয়েডের জন্য
ইউক্যাম পারফেক্ট: পরিপাটি ছবির জন্য খুবই কেজো অ্যাপ। বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে মুখের খুঁত বা যেকোনো দাগ মোছা যায়। চোখ বড়, উজ্জ্বল কিংবা মুখ শীর্ণ, লম্বাটে—যেমন খুশি পরিবর্তন করা যায়। ঠিকানা: http://goo.gl/dzyOzM

পারফেক্ট ৩৬৫:  এটি মূলত নারীর জন্য। এ অ্যাপকে ‘মেকআপ ম্যান’ বললে ভুল হবে না। ঠিকানা: http://goo.gl/DE1D62

লাইন ক্যামেরা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিতে এ অ্যাপ দরকারি। http://goo.gl/PWykRb

সূত্র:  লাইভ​সায়েন্স ডটকম, লাইফস্টাইল, ফ্রিমেক ডটকম ও গেটঅ্যান্ড্রয়েডস্টাফ ডটকম
সেলফি স্টিক

দলগত সেলফি তোলার জন্য এটি এখন বেশ জনপ্রিয়। সেলফি মনোপড বা স্টিকের মাথায় মুঠোফোন বসানোর ব্যবস্থা থাকে। সেখানে বসানোর পর মুঠোফোনের তারহীন ব্লুটুথ চালু করতে হয়। এরপর লাঠিতে থাকা ব্লুটুথ চালু করে দুটির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পর এর গোড়ায় থাকা বোতামে চাপ দিলে ছবি উঠতে থাকে। স্টিকের দৈর্ঘ্য বাড়ানো-কমানো যায়।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন