বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ অ্যাপটিতে রয়েছে দুটি অপশন। প্রথমটি হচ্ছে ‘অ্যাড চিলড্রেন’, অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া শিশু সম্পর্কে ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা। দ্বিতীয় অপশনটি ‘ফাইন্ড চিলড্রেন’—কেউ যদি হারিয়ে যাওয়া কোনো শিশুর সন্ধান পান, তাহলে শিশুটিকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাইলে এ অপশনে ছবি আপলোড করে সার্চ দিতে হবে। হারিয়ে যাওয়া শিশুটি সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য আপলোড করা থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে পরিবারের কাছে।

অ্যাপ সম্পর্কে মইনুল বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সাধারণ মানুষের বোঝার ও ব্যবহারের স্বার্থে অ্যাপে বেশি তথ্য চাওয়া হয়নি। পুরো বিষয় স্পর্শকাতর হওয়ায় এর সঙ্গে পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন হবে। জিডির কপি এবং যিনি হারিয়ে যাওয়া শিশুর খোঁজ পেতে তথ্য আপলোড করবেন, তাঁর বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হবে। সে বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, যিনি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে পেয়ে ফিরিয়ে দিতে চাইবেন, তাঁর বিষয়েও তথ্য দিতে হবে। এ ছাড়া হারিয়ে যাওয়া শিশুকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি থানা বা দায়িত্বশীল কোনো সংস্থার মাধ্যমে করা হবে বলে জানান তিনি।

হারিয়ে যাওয়া কারও তথ্য অ্যাপে আপলোড করার পর নিখোঁজ অ্যাপ কর্তৃপক্ষ ওই আপলোডকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর তারা সরকারি–বেসরকারি অংশীজনদের কাছে হারিয়ে যাওয়া শিশুর বিষয়ে জানাবে।

আর হারানো কোনো শিশুকে যদি কেউ খুঁজে পায় এবং সেই শিশুর হারিয়ে যাওয়ার তথ্য অ্যাপে আগে থেকে আপলোড করা না থাকে, সে ক্ষেত্রে নিখোঁজ অ্যাপ কর্তৃপক্ষের করণীয় কী, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মইনুল বলেন, হারানো শিশুকে খুঁজে পাওয়া ব্যক্তি অ্যাপের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেবে।

এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ অ্যাপটি ইনস্টল করেছে। তবে এখনো অ্যাপে হারানোর কোনো ঘটনা আসেনি। অ্যাপ কর্তৃপক্ষ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ফেসবুকের নিখোঁজ অ্যাপের পেজ ও গ্রুপেও চালানো হচ্ছে প্রচার। প্রাথমিকভাবে শিশুদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও এখানে যেকোনো বয়সী মানুষ হারিয়ে গেলেও খুঁজে পাওয়ার জন্যও সহায়তা করবে নিখোঁজ।

গত জুন মাসে অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে আসে। প্রতিষ্ঠাতারা অ্যাপটিকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে নিয়ে কাজ করছেন। মানুষের সাড়া পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিয়ে আরও বড় পরিসরে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

নিখোঁজ অ্যাপ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূলত দুটি বিষয় থাকে—প্রথম হচ্ছে ছোট্ট শিশুদের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বা যারা নিজেদের নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে পারে না, তাদের হারিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় হচ্ছে পালিয়ে যাওয়া, শত্রুতা ও মুক্তিপণের কারণে হারানোর ঘটনা। ছোট্ট শিশু বা নাম-ঠিকানা বলতে না পারা শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অ্যাপ সহায়ক হতে পারে। তবে বাকি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলে জানান মো. কামরুজ্জামান। পুলিশের সহায়তা কীভাবে নিখোঁজ অ্যাপ নেবে, সেটা তাদের ঠিক করতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন