default-image

যাঁরা ২০ বছরের কোঠা এখনো পার হননি তাঁদের অ্যাডাল্ট বা সাবালক না বলে কিডাল্ট (কিড+অ্যাডাল্ট) বলা যেতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফল বলছে, বয়স যদি ২৫ বছরের ধারেকাছে না হয়, তবে কারও সাবালকত্ব আসে না। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট–এর।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ মেডিসিন স্কুলের মনোবিদ বিয়াট্রিজ লুনা সম্প্রতি সাবালকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, বাড়ির বাইরে গিয়ে যখন নিজের ভরণপোষণের দায়িত্বভার নিতে শুরু করেন কোনো তরুণ, তখন তার মস্তিষ্কে সংবেদন স্পৃহা ও অভিনবত্বের বিষয়টি দেখা যায়। এর আগে এই স্পৃহা বা ইচ্ছার বিষয়টি ১৫ বছর বয়সে শুরু হয় বলে মনে করা হতো।
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সাবালকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি আরও অনেক পরে আসে। মস্তিষ্কের ‘স্ট্রায়েটাম’ নামের একটি অংশের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। মস্তিষ্কের এই অংশটি ‘পুরস্কার’ প্রাপ্তির অর্থাৎ ফল প্রত্যাশী হয়ে উদ্দীপিত হয় এবং ২৫ বছর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালু থাকতে দেখা যায়।
সচরাচর ধরা হয় যে প্রাপ্তবয়স্ক বা সাবালক হতে গেলে ‘প্রাপ্তবয়স্কের দায়দায়িত্ব’ যেমন স্থায়ী চাকরি, দেনা পরিশোধ, পরিবারের দায়দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মস্তিষ্কের এই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়। অধ্যাপক লুনা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই সময়টি সম্ভবত ২৫–এর কাছাকাছি।
তরুণদের বেলায় মস্তিষ্কের সংবেদনশীল অনুভূতি খোঁজার অংশ ও মস্তিষ্কের কর্টেক্সের সামনের অংশ বা পরিকল্পনার অংশটি যৌথভাবে কাজ করে। এ কারণে তরুণেরা কৌতূহলী ও পরীক্ষা–নিরীক্ষাপ্রবণ হয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের (এএএএস) বার্ষিক সভায় গবেষণা সম্পর্কে জানান গবেষক লুনা। তিনি বলেন, ‘অনুভূতি খোঁজ করার অর্থ হচ্ছে তথ্য হাতড়ে বেড়ানো, নতুনত্ব খোঁজ করার মতো বিষয়গুলো মানুষসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৈশিষ্ট্য। তরুণেরা মা-বাবার অনুমতির অপেক্ষা না করেই মস্তিষ্কপ্রসূত কারণেই নতুন কিছুর সন্ধান করে ফেরে।’
গবেষক লুনা জানিয়েছেন, তিনি এখন মানুষের সাবালকত্ব হওয়ার প্রক্রিয়াতে কত দিন ধরে মস্তিষ্কের পরিবর্তন হতে থাকে, সেটি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি আশা করছেন, মানুষের মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনটি ৩০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গবেষক লুনা আরও বলেন, ‘পরিবেশ যখন প্রয়োজন অনুভব করে তখনই তরুণের মস্তিষ্কে দায়িত্ববান সাবালক হয়ে ওঠার সংকেত পাঠায়। তাকে দায়িত্বের বোঝা টেনে নেওয়ার বিষয়টি শিখিয়ে দিয়ে তারুণ্যের চঞ্চলতা কাটিয়ে স্থায়ী চাকরি বা সুস্থির জীবনের পথনির্দেশ করে। তবে সাবালক হওয়ার আগে জীবন নিয়ে আরেকটু স্বাধীনতা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চয়ই খারাপ কিছু নয়।’

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন