নামী সব মানুষের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিটকয়েন চাইত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গ্রাহাম আইভান ক্লার্ক নামের এক কিশোর। বিনিময়ে দ্বিগুণ বিটকয়েন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। এভাবে এক লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নিয়েছিল। সে অপরাধের সাজা হিসেবে তিন বছরের জেল হলো গ্রাহামের।
default-image

গত বছর জুলাইয়ের ঘটনা। গ্রাহাম আইভান ক্লার্কের বয়স তখন ১৭। একে একে নামী সব মানুষের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে শুরু করতে সে। এই তালিকায় আছে জো বাইডেন, বিল গেটস ও কিম কার্দাশিয়ান ওয়েস্টের মতো জনপ্রিয় নাম।

অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে বিটকয়েন পাঠানোর লিংক টুইট করে গ্রাহাম লিখত, ‘আমাদের ঠিকানায় পাঠানো সব বিটকয়েন দ্বিগুণ করে প্রেরকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, এভাবে এক লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেয় গ্রাহাম। তবে সে অর্থ গ্রাহাম ফেরত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

টাম্পা বে টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইটারের এক কর্মীকে গ্রাহাম বুঝিয়েছিল যে সে প্রতিষ্ঠানটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কাজ করে। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের সুযোগ পায় সে।

বিজ্ঞাপন

টুইটারের ঘটনাটি সে সময় বেশ শোরগোল তুলেছিল। কয়েক ঘণ্টার জন্য সব ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু পোস্ট করার সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর দিন কয়েক পর গ্রেপ্তার হয় গ্রাহাম।

সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হয় গ্রাহাম আইভান ক্লার্ক। এমন অভিযোগের সর্বোচ্চ সাজা ৩০ বছরের জেল। তবে তরুণ বয়স বিবেচনায় এনে গ্রাহমকে কেবল তিন বছরের সাজা দেন আদালত। এরপর আরও তিন বছর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

সাজার মেয়াদের অংশবিশেষ জেলখানার বাইরে বিকল্প কোথাও কাটানোর সুযোগ পেতে পারে গ্রাহাম। তবে সেখানে কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পাবে না সে। আর একান্তই যদি ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, তবে কারও তত্ত্বাবধানে করতে হবে। এদিকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত এ পর্যন্ত জেলখানায় কাটানো ৮ মাস তার সাজা থেকে কাটা যাবে।

ওই হ্যাকের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের ম্যাসন শেপার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিমা ফাজেলি নামের আরও দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা চলমান।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন