default-image

ঘুম কম হলে বা না হলে মস্তিষ্কের কী হয়, তা বিজ্ঞানীরা জানতেন। তবে মস্তিষ্কের ঘুম কেন দরকার, তা জানতেন না। বিজ্ঞান সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে গত সপ্তাহে এ নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে অ্যাস্ট্রোসাইট নামের অনেকটা নক্ষত্রের মতো দেখতে মস্তিষ্কের কোষের কথা বলা হয়েছে। হয়তো সে কোষগুলোই ঘুমের পেছনে দায়ী বলে গবেষকদের ধারণা।

অ্যাস্ট্রোসাইট মূলত গ্লায়াল কোষ। মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর কাঠামো গঠনে সাহায্য করে। এত দিন পর্যন্ত সেটাই অ্যাস্ট্রোসাইট কোষের মূল কাজ বলে জানত সবাই। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ইঁদুরের মস্তিষ্কে খুদে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে ‘ক্যালসিয়াম সিগন্যালিং’ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। ইঁদুর এবং মানুষের মস্তিষ্কে অ্যাস্ট্রোসাইট কোষগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিউরনের কাজ ঠিকঠাকভাবে করার জন্য ক্যালসিয়ামের কণা প্রেরণ করে। এই প্রক্রিয়াই ক্যালসিয়াম সিগন্যালিং।

গবেষকেরা দেখলেন, ইঁদুর জেগে আছে, না ঘুমিয়ে আছে, তার ওপর নির্ভর করে অ্যাস্ট্রোসাইট কোষগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়াম সিগন্যালিং প্রক্রিয়ায় তারতম্য হচ্ছে। সে তথ্য অবশ্য এমন চমৎকার কোনো আবিষ্কার নয়। কারণ, নিউরনের ওপর নির্ভর করে অ্যাস্ট্রোসাইট কোষের কাজের ধরনে পরিবর্তন আসাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন
অ্যাস্ট্রোসাইট শুধু নিউরনের কাজের প্রতিফলন করছে না, এর অর্থ হতে পারে আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণে অ্যাস্ট্রোসাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অ্যাশলি ইঙ্গিওসি, নিউরোবিজ্ঞানী, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি

গবেষক দলের উৎসাহের কারণ হলো, তাঁরা দেখলেন জেগে থাকলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলো খুবই সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে আমাদের চিন্তা করতে সাহায্য করে বলে এমনটা হয়। তবে বিঘ্নহীন ঘুমের সময়েই বরং অ্যাস্ট্রোসাইট কোষগুলোর ক্যালসিয়াম সিগন্যালিং প্রক্রিয়া আরও সুনির্দিষ্ট হয়। আর এ ব্যাপারটিই বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কারণ।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির নিউরোবিজ্ঞানী এবং গবেষক দলের প্রধান অ্যাশলি ইঙ্গিওসি বলেন, ‘কারণ, অ্যাস্ট্রোসাইট শুধু নিউরনের কাজের প্রতিফলন করছে না, এর অর্থ হতে পারে আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণে অ্যাস্ট্রোসাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ সূত্র: পপুলার সায়েন্স

মন্তব্য করুন