default-image

‘আকাশভরা সূর্য-তারা’—রবীন্দ্রনাথের এই গানের সঙ্গে শামীম আরা নীপার নেতৃত্বে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃতাঞ্চলের শিল্পীরা। নাচ-গান তো ছিলই। অভিনয় ছিল, তার সঙ্গে একটুখানি খেলা। বাদ পড়েনি জাদুও। আনন্দে মেতে উঠতে যা থাকা দরকার একটি আয়োজনে, সেসব নিয়েই ভরপুর বিনোদনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার বিতরণীর অনুষ্ঠান।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের এই আনন্দযজ্ঞ দ্যুতিময় হয়ে উঠেছিল দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সূর্য তারাদের সমাবেশে। এটি ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকাদের পুরস্কৃত করার ষোড়শ আয়োজন। দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরা এই অনুষ্ঠানে একটি আজীবন সম্মাননাসহ ১৪টি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেওয়া হয়।
কদিন আগেই দেশে অনুষ্ঠিত হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা। তার রেশ ধরেই আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়েছিল ‘চার ছক্কা হই হই’ গানের সঙ্গে ফ্ল্যাশ মব দিয়ে। গানে ছিলেন কনা, এলিটা, পূজা ও পান্থ কানাই। এরপর প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে।
দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার পাশাপাশি জাতির বিভিন্ন সংকটে সামাজিক দায়িত্ব পালনে শিল্পীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মতিউর রহমান। রানা প্লাজা ধসের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর এ অনুষ্ঠানের সময় সেই বেদনাদায়ক ঘটনায় এই মঞ্চ থেকেই হতাহতদের সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছিল ‘মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল’। এরপর স্কয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী মঞ্চে আসেন। তিনিও শিল্পীদের প্রতি অভিনন্দন জানান এবং সদ্যপ্রয়াত শিল্পী বশির আহমেদ ও সাংবাদিক এবিএম মূসার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
চমকের পর চমক ছিল এবারের অনুষ্ঠানে। বক্তৃতা পর্বের পরই নেপথ্য থেকে ভেসে এল ক্রীড়াজগতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফর উল্লাহ শারাফাতের ভরাট কণ্ঠ ‘সারা বাংলাদেশের চোখ কিন্তু আজ এই অনুষ্ঠানের দিকে...।’ 
এরপর আনা হয় একটি বড় আকারের বাক্স। সেই বাক্স ভেদ করে মঞ্চে আসেন জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। তিনিই ছিলেন এবারের আয়োজনের মূল সঞ্চালক। তাঁকে সহায়তা করেন সাজু খাদেম ও জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।
পুরস্কার পর্ব শুরু হয়েছিল নন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাককে আজীবন সম্মাননা দিয়ে। তাঁর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান। পাশে ছিলেন মতিউর রহমান ও অঞ্জন চৌধুরী। তাঁরা নায়করাজকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তাঁর হাতে সম্মাননার এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন। রাজ্জাক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত পাঁচ দশকে দেশের জনগণের কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। দর্শকেরা আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিপুল করতালিতে তাঁকে অভিনন্দন জানান। 
এরপর ছিল রাজ্জাককে সম্মান জানিয়ে তাঁর অভিনীত সিনেমার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান নিয়ে একটি মিশ্র নৃত্য পরিবেশনা। এতে অংশ নেন রিয়াজ, ফেরদৌস, অপু বিশ্বাস ও সহশিল্পীরা। একপর্যায়ে তাঁরা নায়করাজকে দর্শক আসন থেকে মঞ্চে এনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর ছিল চারটি বিভাগের পুরস্কার বিতরণী। মঞ্চের পাশের বড় পর্দায় দেখানো হয় একটি বিশেষ চলচ্চিত্র। কুলফি নামের এক স্বঘোষিত বিশ্বখ্যাত জাদুকর, যিনি বারাক ওবামার

default-image

কাছ থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি জাদু নিয়ে গবেষণা করছেন ল্যাবরেটরিতে। একপর্যায়ে তিনি চলে আসেন মঞ্চে। এই জাদুকরের ভূমিকায় সাজু খাদেম পুরো অনুষ্ঠানেই নানা কাণ্ড ঘটিয়ে প্রচুর হাসিয়েছেন দর্শকদের। প্রতিটি পরিবেশনার পরপর দর্শকেরা বিপুল করতালি দিয়ে শিল্পীদের অভিনন্দিত করেন।
পুরস্কার বিতরণের মাঝে মাঝেই ছিল চমৎকার সব পরিবেশনা। আনিসুল হকের সঞ্চালনায় ক্রিকেট আর ফুটবল নিয়ে ‘ক্রিবল’ নামের এক খেলায় অংশ নেন ফুটবলার আমিনুল হক, ক্রিকেটার নাসির হোসেন, মতিউর রহমান ও ফরিদুর রেজা সাগর। গানের শিল্পী কনা, এলিটা, পান্থ কানাই, জোহান ও পূজাও অংশ নেন এতে। অনুষ্ঠানে ছিল হিন্দি প্যারোডি গান ‘হাম্বা হাম্বা’। শহিদুল আলম সাচ্চু, শিরিন বকুল, মাজনুম মিজান, স্বাগতা, মুকিত জাকারিয়া ও শামীমা তুষ্টি এতে অংশ নেন। তিনটি জনপ্রিয় সিনেমার গানের সঙ্গে মিশ্র নৃত্য করেন মেহজাবিন, ইমন, মৌসুমী হামিদ, নিশো, অপূর্ব ও শায়না।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে দেখানো হয়েছিল ‘মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র। গত বছর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী ও দর্শকেরা তাৎক্ষণিকভাবে রানা প্লাজ ধসের হতাহতদের কল্যাণে ৫৪ লাখ টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এরপর প্রথম আলোর কর্মীদের এক দিনের বেতন ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের দেওয়া ১০ লাখ টাকা দিয়ে প্রাথমিক তহবিল গঠন করা হয়েছিল। দেশ ও বিদেশে বহু মানুষ এই তহবিলে অর্থসহায়তা দিয়েছেন। মোট দুই কোটি ২১ লাখ ১৭ হাজার ৯২২ টাকা জমা হয়েছে তহবিলে। এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তথ্যচিত্রে তা তুলে ধরা হয়।
কদিন থেকেই প্রচণ্ড গরম। বৃষ্টির জন্য হাহুতাশ। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল গানের দল জলের গানের শিল্পীদের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান’ গানটি দিয়ে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন