আটকে গেছেন ভিনদেশে

বিজ্ঞাপন
করোনায় দেশের বাইরে গিয়ে আটকা পড়েছেন বেশ কয়েকজন তারকা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফেরার কোনো পথ নেই। তাই ভিনদেশে আটকে থেকেই খোঁজ নিচ্ছেন দেশের, পরিবারের ও স্বজনদের।
default-image

ভাইয়ের বাসায় আছেন সুচন্দা
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছেলে অপু রায়হানকে দেখতে যান অভিনেত্রী ও নির্মাতা সুচন্দা। ছেলে দেশে ফিরলেও সুচন্দার পরিকল্পনা ছিল ভাইদের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে এপ্রিলের শুরুর দিকে দেশে ফিরবেন। কিন্তু নিউইয়র্কে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেই আটকা পড়েন সুচন্দা। আপাতত এই অভিনেত্রীর দেশে ফেরা অনিশ্চিত। বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাইয়ের বাসায় আটকে কোয়ারেন্টিনে আছেন এই অভিনেত্রী। সুচন্দার ছোট বোন ববিতার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আপার সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে। আপা আমাদের এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খুবই চিন্তিত। দেশের মানুষের জন্য খুব চিন্তা করছেন। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই।’

default-image

নিউইয়র্কে আটকা পড়েছেন বিপাশা হায়াত
অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে থেকেই তিনি বাংলাদেশে থাকা পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন, সবকিছু সামলাচ্ছেন। ভিডিও বার্তায় স্বামী তৌকীর আহমেদ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের যেমন সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন, তেমনি করোনা নিয়ে সতর্কও করে যাচ্ছেন। ভিনদেশে কীভাবে সময় কাটছে, জানতে চাইলে এই অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী বলেন, ‘এই সময়টা গল্প ও কবিতার বই পড়ছি। মানবসভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। অনেক সময় ছবি আঁকছি। কিছু সময় এক্সারসাইজ করে পার করছি, গান শুনছি, এভাবেই সময় চলে যাচ্ছে।’

default-image

মেয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফাহমিদা নবী
মেয়ে আনমোলসহ ছোট বোনের কাছে যুক্তরাজ্যে বেড়াতে গিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। ৩১ মার্চ তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। এ সময়ে বিশ্বের করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। বন্ধ হতে শুরু করে বিমান চলাচল। তাই এই শিল্পীর দেশে ফেরা হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। এখনো লন্ডনের আর্চ ব্রিচ এলাকায় বোন অন্তরার বাড়িতেই আছেন ফাহমিদা নবী। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে দেশ ও দেশে থাকা বন্ধু–স্বজনদের খোঁজ নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফাহমিদা নবী বলেন, ‘হঠাৎ করেই পুরো পৃথিবীর সব একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল। করোনা পৃথিবীর সব শ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছে। ধনী–গরিব, উঁচু–নিচু মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখেনি। সবাইকে ঘরবন্দী করেছে। অথচ কেউ ভাবতেই পারেনি পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটবে।’

default-image

দুবাইয়ে আছেন সুজানা
মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর ব্যবসায়িক কাজে ১৮ মার্চ দুবাই গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য থাকেন। ভেবেছিলেন ব্যবসায়িক কাজ শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে দেশে ফিরবেন। পয়লা বৈশাখ ও ঈদ সামনে রেখে দেশে বেশ কিছু জরুরি কাজ ছিল তাঁর। কিন্তু সেটা আর হলো না। সুজানা সেখানে যাওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ১৯ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দুবাই লকডাউনে চলে যায়। এর ফলে সেখানেই আটকে যান সুজানা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এখানে পরিবারের সঙ্গে ভালোই সময় কাটছে। নিজেকে সময় দিচ্ছি। নিজের কাজ নিজে করছি। রান্নাবান্না এবং প্রার্থনা করে সময় যাচ্ছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছি। করোনা নিয়ে সতর্ক আছি। দেশের কথাও খুব মনে পড়ছে। কবে ফিরতে পারব, জানি না।’

default-image

তানিয়া যুক্তরাষ্ট্রে, দুশ্চিন্তা দেশ নিয়ে
ব্যক্তিগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল মে মাসে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশটি লকডাউনে চলে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, আপাতত সেটা জানেন না এই অভিনেত্রী। দেশের মানুষের অসচেতনতা সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে তাঁকে। তানিয়া বলেন, ‘সব সময় দেশের খোঁজখবর রাখছি। দেশের অনেক মানুষ এখনো সেভাবে করোনাভাইরাসকে আমলে নিচ্ছে না। এটা খুবই কষ্ট দিচ্ছে। তারা হয়তো ক্ষণিকের জন্য ভাবছে কিছু হবে না। না হোক, সেটা আমারও চাওয়া। কিন্তু একবার যদি মহামারি আকার ধারণ করে তখন আমরা কি সামাল দিতে পারব?’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন