বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে পারেননি পার্থপ্রতিম মজুমদার। তবে সিনেমাটি দর্শক খুবই পছন্দ করেছেন, সেই খবর সিনেমাটির পরিচালক শৈবাল মিত্রের কাছ থেকে শুনেছেন এ অভিনেতা। ফ্রান্স থেকে ফোনে পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, ‘সিনেমাটির ভারতের প্রিমিয়ার আমাদের জন্য অনেকটাই বিশেষ ছিল। সিনেমাটির গভীর অর্থ রয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো সিনেমাটি ভারতে নিষিদ্ধও হতে পারে। কিন্তু এই বছর সিনেমাটি ভারতের সেন্সর বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছে। অবশেষে সিনেমা ভারতের দর্শকেরা দেখেছেন। শুনেছি, সিনেমার দুটি প্রদর্শনীই হাউসফুল ছিল। এমনকি সিনেমা শেষ হওয়ার পরেও দেড় মিনিট ধরে দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে প্রশংসা করেছেন। নির্মাতার কাছ থেকে শুনে বেশ ভালো লেগেছে। উৎসবে উপস্থিত থাকতে পারলে হয়তো আরও ভালো লাগত।’

default-image

পশ্চিমবঙ্গের হিল্লোলগঞ্জের একটি চার্চের পাদরি প্যাস্টর হেড়ম্বচন্দ্র। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্থপ্রতিম মজুমদার। যিনি আদিবাসী এলাকার মানুষের মধ্যে ধর্মের বাণী ছড়িয়ে দেন। ঘটনাক্রমে সিনেমায় প্রকৃতির নানা প্রসঙ্গ আসে। গল্পে নতুন মোড় নেয়। সাম্প্রদায়িকতা, অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতিবাদ নিয়ে সিনেমাটিতে যোগ হয় নতুন চরিত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরউদ্দিন শাহ। পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, ‘ভারতবর্ষের দুই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিন ভাগ করে নিয়েছি এবং একই সঙ্গে একটা উচ্চমানের ক্ল্যাসিক ফিল্মে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। দারুণ এই সিনেমাটি একদিন উপমহাদেশের ফিল্ম আর্কাইভে স্থান পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

default-image

কলকাতার শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে আড্ডা হতো সিনেমাটির পরিচালক শৈবাল মিত্র, পরিচালক ব্রাত্য বসু, শান্তনু ঘোষসহ অনেক অভিনেতা ও গুণী ব্যক্তিদের সঙ্গে। এভাবের একদিন শৈবাল মিত্র তাঁকে সিনেমায় জন্য প্রস্তাব দেন। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, ‘একদিন সন্ধ্যায় হাওড়ার পাশের একটি চার্চে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি দৃশ্যের শুটিং ছিল। তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ অনেক বড় পাওয়া। শুটিংয়ে সেদিন তিনি আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, আমার বাড়িতে এসো। আমি কিন্তু আর বাঁচব না। তখন আমি বলেছিলাম, ডাবিং এবং শান্তিনিকেতনের একটি কাজ শেষেই আমাকে ফ্রান্সে যেতে হবে। সময় পেলে অবশ্যই আপনার বাসায় গিয়ে দেখা করে আসব। দিনটি ছিল ২০১৯ সালের ২১ মে। বিদায় নেওয়া সময় তিনি আবার বলেছিলেন, আর দেখা না দেখা হলে এটাই আমাদের শেষ দেখা, ভালো থেকো। পরে দ্রুত কাজ শেষে করেও সময়ের অভাবে আমাদের আর দেখা হয়নি। ঘটনাটা এখনো আমাকে কষ্ট দেয়।’

default-image

বিখ্যাত আমেরিকান নাটক ‘ইনহেরিট দ্য উইন্ড’ অবলম্বনে সিনেমাটির গল্প। পার্থপ্রতিম মজুমদার জানালেন, সিনেমাটি আগামী বছর মার্চে ভারতে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাবে। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই মূকাভিনয়শিল্পী ২০১১ সালে ফরাসি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সেরা সম্মান ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন। মূকাভিনয়ের পাশাপাশি তিনি মঞ্চ ও বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশে পরিচিত হয়ে ওঠে মূকাভিনয়।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন