একটা শিক্ষা হয়েছে আমাদের

বিজ্ঞাপন
default-image
>প্রায় দুই সপ্তাহ হলো পরিবারসহ খুলনায় দাদাবাড়িতে অবস্থান করছেন নায়িকা পপি। যাওয়ার পরই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতন করেন। পাশাপাশি কিছু নিরাপত্তাসামগ্রীও বিতরণ করেন তিনি। ২৫ মার্চ থেকে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় তাঁর ঢাকায় ফেরা অনিশ্চিত। এসব নিয়ে তিনি কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

খুলনায় গেছেন কবে? একা, নাকি পরিবারের কেউ আছে?

১৩ মার্চ মা-বাবা, ভাইবোনদের নিয়ে এসেছি। খুলনায় আমার দাদাবাড়ি। আমরা আসার পরই করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এখানে আসার পর দিনমজুর, বিশেষ করে রিকশাওয়ালা, চা বিক্রেতাসহ রাস্তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতন করেছি।

শহরের কোথায় কোথায় গেলেন, কী কী করলেন?
গত চার দিন খুলনার শিববাড়ি, ইব্রাহিম মিয়া রোড, হাসানবাগ ও বুড়ো মৌলভি দরগাহর এতিমখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাস্ক ও বেশ কিছু স্যানিটাইজার বিতরণ করেছি। তবে স্যানিটাইজার বেশি দিতে পারিনি। এখানে পাওয়াও যাচ্ছে না। বাবা, ভাইবোনসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন মিলে এসব বিতরণ করেছি। এই মানুষেরা করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে তেমন জানেন না। তাঁদের চিন্তা, ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে হবে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। তাঁরা মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনতেও চাইবেন না। এই ভাইরাস সম্পর্কে তাঁদের কিছু তথ্যও দিয়েছি।

default-image

এখন কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

পরিবারের সঙ্গে ঘরে বসেই কাটাচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেভাবে চলার পরামর্শ দিয়েছে, সেভাবেই চলার চেষ্টা করছি। তা ছাড়া সরকারও বাসা থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। বাইরে ঘোরাঘুরি করলে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

আপনি কি আতঙ্কিত?
খুব। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি সারা দুনিয়াতে কীভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। পৃথিবীজুড়ে মানুষের মৃত্যু বাড়ছে। অত্যাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা সত্ত্বেও ইউরোপ, আমেরিকার মতো দেশগুলো এই ভাইরাসকে রুখে দিতে পারছে না। আমাদের এখানে যে চিকিৎসাব্যবস্থা, তাতে এই মহামারি ছড়িয়ে পড়লেও থামানোর কোনো সুযোগ নেই। এই ভাইরাসে কখন, কীভাবে কে আক্রান্ত হবে, কেউ জানি না। তাই সব দিকনির্দেশনা মেনে ঘরে অবস্থান করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে।

default-image

ছোট পর্দার কয়েকটি সংগঠন স্বল্প আয়ের শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য তহবিল গঠন করছে। এর আগে আপনি চলচ্চিত্রের শিল্পী সমিতির নেত্রী ছিলেন। এবার ফিল্ম ক্লাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আপনাদের সমিতিগুলো তহবিল গঠনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে?

এটা করা কঠিন। এখন সম্মিলিতভাবে কোনো কাজ করতে ভয় লাগে। এর আগে সম্মিলিতভাবে স্বল্প আয়ের শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য তহবিল গঠন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছি। কেউ কেউ কাজ করে, কেউ ফায়দা লোটে। তহবিল তৈরির সময়, বিশেষ করে টাকা সংগ্রহের সময় সব জনপ্রিয় শিল্পীকে ডাকা হতো। কিন্তু তহবিলের টাকা যখন শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে বিতরণ করা হতো, তখন আমাদের অনেককেই ডাকা হতো না। দু-একজন মিলে বিতরণ করতেন। ছবি তুলে সেই ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে কৃতিত্ব নিতেন। তখন একটা শিক্ষা হয়েছে আমাদের। এ কারণে এ ধরনের তহবিল গঠনের জন্য চলচ্চিত্রের মানুষগুলো এখন আর একত্র হতে চান না। তা ছাড়া বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের সব ক্ষেত্রের মানুষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রবলভাবে কাজ করছে। সবাইকে নিয়ে তহবিল গঠনের পরিবেশ এখন নেই।

default-image

কিন্তু এই দুঃসময়ে এটি তো একটি মানবিক ব্যাপার। তাই সবার এক কাতারে দাঁড়াতে সমস্যা কোথায়?

সত্যি কথা কি, সেই পরিবেশ নেই। চলচ্চিত্রের দু-একটি সংগঠন ব্যক্তিগত সংগঠন হয়ে গেছে। এ কারণে বড় বড় সংগঠনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দুঃসময়ে শিল্পীরা চাইলে নিজ নিজ জায়গা থেকে ব্যক্তিগতভাবে স্বল্প আয়ের শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য কিছু করতে পারেন।

ঢাকায় ফিরবেন কবে?
যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া এই অবস্থায় ঢাকার মতো দূরের পথে যাত্রা করা ঠিক হবে না। যাত্রাপথে করোনার ঝুঁকি আছে। তাই যত দিন পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক না হচ্ছে, তত দিন ঢাকায় ফেরা হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন