default-image

এনজি শট মানে ‘নট গুড শট’। তারকারা হরহামেশাই এনজি শটের মুখে পড়েন। কখনো সেই অভিজ্ঞতা বিরক্তিকর, কখনো মজার, আবার কখনো মধুর। এই বিভাগে আজ শুনুন ববিতার স্মৃতি।
অভিনয়শিল্পী মাত্রই এনজি শটের মুখোমুখি হতে হয়। আমি মনে করি, এটা শিল্পীদের আরও দক্ষ করে। তবে ক্লান্তও হতে হয়। মনে পড়ছে প্রয়াত কাজী জহির ভাইয়ের কথা। তাঁর ছবিতে এনজির মুখোমুখি হয়নি, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। একটি সাধারণ দৃশ্য তিনি কম করে হলেও ১০ বার নিয়েছেন। এমন হয়েছে, আমি ২০ থেকে ২৫ বার একটি দৃশ্যের শট দিয়েছি। তাঁকে সন্তুষ্ট করা সত্যিই কঠিন ছিল। একবার এমন হলো, ২০ বার শট দেওয়ার পরও দৃশ্য ওকে হয়নি। সবাই বেশ ক্লান্ত। পরে তিনি শটগুলো আবার দেখলেন। সেখান থেকে দ্বিতীয়বার নেওয়া শটটি নির্বাচন করলেন। এমনই ঘটনা জহির ভাইয়ের সঙ্গে অনেক হয়েছে। তাঁর কথা দিলাম, নতুন বউ সহ আরও কয়েকটি ছবিতে আমি কাজ করেছি। তিনি কাজের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে ছিলেন, কিংবা সচেতনভাবেই এটি করতেন। হয়তো তিনি সেরা কাজটি বের করে নিতেন। তখন বয়স কম ছিল, তাই হয়তো ক্লান্ত হইনি।
এমন ঘটনা কম ঘটেছে কলকাতার মানিকদার (সত্যজিৎ রায়) ক্ষেত্রে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস অবলম্বনে মানিকদা নির্মাণ করেন অশনি সংকেত ছবিটি। এতে আমি অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয় করেছি। এমন হয়েছে যে একটি শটেই ওকে হয়েছে। তার ক্ষেত্রে ভুল খুব কম করেছি। হয়তো ওই সময় আমি বেশি সচেতন ছিলাম, আর দৃশ্যগুলো বেশ গোছানো হতো। সেটে গিয়ে দেখতাম সব ঠিকঠাক। তবে বারবার শট নেওয়া হয়নি, তা কিন্তু নয়। আর তা বেশির ভাগই কারিগরি সমস্যার কারণে।

জহির রায়হানের সংসার ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেছি। ওই ছবিতে আমি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ে ছিলাম। এরপর অসংখ্য ছবিতে কাজ করেছি। আর এনজি শটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বারবার।
অনুলিখন: আলম বিশ্বাস

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন