default-image

‘তুমি রবে নীরবে’—রবীন্দ্রনাথের এই গানটি যখন গাইছিলেন সেমন্তী মঞ্জরী, তখন যুবরাজের বোন নাসিমা খানকে মুখে আঁচল চেপে কাঁদতে দেখা গেল। তাতে অনুষ্ঠানে লাগল শোকের পরত। খালেদ খান, যিনি সংস্কৃতি জগতে যুবরাজ নামেই পরিচিত; তাঁর জন্মদিন ছিল কাল সোমবার। ‘যুবরাজ জয়ন্তী’ নামে তাই তাঁর পরিবার ও যুবরাজ স্মৃতি পর্ষদ আয়োজন করেছিল কথা ও গানের অনুষ্ঠান। ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত হলে কাল সন্ধ্যাটা ছিল কেবলই যুবরাজের।
অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন সঞ্চিতা দত্ত। যুবরাজ খুব শুনতেন তাঁর গান। তিনি গাইলেন ‘সে চলে গেছে বলে কি গো স্মৃতিও হারিয়ে যাবে’। গাইলেন পার্থ তানভীর নভেদ—‘ডাকব না ডাকব না’। প্রত্যেকেই গাইলেন দুটি করে গান। তাঁদের তিনজনের পর গাইলেন পার্থ সারথী শিকদার, মামুন জাহিদ, লাইসা আহমেদ লিসা, বুলবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘কিছু কথা কিছু গান হবে’ বলে জানিয়েছিলেন যুবরাজের সহধর্মিণী মিতা হক। যুবরাজকে চর্চার জন্য একটি কমিটি ঘোষণা করলেন মিতা হক। এ কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন ইউসুফ। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বললেন, ‘আমি বয়সে যুবরাজের চেয়ে বড় হলেও আজ তাঁকে স্মরণ করে কথা বলতে হচ্ছে, এটা বেদনাদায়ক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-আদালতের সময়গুলোতে তাঁর সঙ্গে আমার সখ্য গড়ে ওঠে। যুবরাজের ছিল শুদ্ধ সংগীত, উচ্চারণ, নাটকচর্চার অভিজ্ঞতা। তাঁর আদর্শ নিয়ে চর্চা করা হলেই তিনি আলোচিত হবেন। দেশের অস্থিতিশীল অবস্থায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। নাটকে অভিনয়ে একটি ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি করেছিলেন যুবরাজ। সুতরাং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁর আদর্শগুলো চর্চার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তাঁকে মনে রাখা আরও সহজ হবে।’ কমিটির সদস্যসচিব হয়েছেন আজহারুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন