default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। গতকাল রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে, তিনি কষ্ট করে হলেও শয্যায় বসতে পেরেছেন। পা ঝুলিয়ে বসেছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তাঁকে হাঁটানোর চেষ্টা করা হবে।

৬ অক্টোবর করোনায় আক্রান্ত সৌমিত্রকে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, গতকাল থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাচ্ছেন রাইলস টিউব দিয়ে। দুই ঘণ্টা অন্তর খাওয়ানো হচ্ছে। এখন কিছুটা কথাও বলতে পারছেন। শুনছেন রবীন্দ্রসংগীত আর তাঁর প্রিয় ছবির গান।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকেরা বলেছেন, এখন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সাড়াও দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা আরও বলেছেন, তাঁরা তাঁর মেয়ে পৌলমীকে বলেছেন, তিনি যেন বাবার সঙ্গে ভিডিও কলিংয়ে অতীতের সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা শোনান। হাসপাতালে তাঁর ফিজিওথেরাপি শুরু করা হয়েছে। এখন তিনি কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই শ্বাস নিতে পারছেন। তাঁকে শোনানো হচ্ছে গল্পের বইয়ের গল্প। চিকিৎসকেরা আশাবাদী, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, এখন আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জ্বর নেই। রাতে ঘুমও হচ্ছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে চিকিৎসা করছেন ১৯ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে হাসপাতালের ১১ জন আর হাসপাতালের বাইরে থেকে আনা হয়েছে আরও ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। যদিও করোনার চেয়ে চিকিৎসকেরা তাঁর অন্যান্য রোগ নিয়ে বেশি চিন্তিত রয়েছেন।

১ অক্টোবর থেকে বাড়িতে থাকাকালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। জ্বর হয়। তবে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এরপরই চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৫ অক্টোবর তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করানো হয় বেলভিউ নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমে সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর তাঁর করোনা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও তাঁর করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0