default-image

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা বানানো কঠিন কাজ। তার ওপর যুদ্ধের সময় সেই পরিচালকের বয়স যদি হয় মাত্র এক বছর, তাহলে তো কথাই নেই। সম্প্রতি এই কঠিন কাজটিই হাতে নিয়েছেন নির্মাতা নূরুল আলম আতিক। সরকারি অনুদানে মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে তিনি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘লাল মোরগের ঝুঁটি।’ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি নির্মাণে তাঁর এই প্রক্রিয়াকে তিনি অভিহিত করছেন— ‘বাংলা সিনেমার মুক্তির যুদ্ধ’ হিসেবে।
পরিচালক আতিক জানান, ‘সিনেমার ভাষা হচ্ছে ‘গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ’। সেখানে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে সিনেমায় নিজেদের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করা। বলা যায়, আপন ভাষার সন্ধানে কাজ করবে এ চলচ্চিত্রটি। বাংলা সিনেমায় যে দুর্গতি চলছে, তা থেকে সিনেমাকে উদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা হবে এটি।’
মাতিয়া বানু শুকুর প্রযোজনায় শিগগিরই এ ছবির শুটিং শুরু হবে। এ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন আতিক।
পরিচালক আরও জানিয়েছেন, ‘এ ছবির আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ছবিটা তৈরি হবে জনগণের টাকায়; সে ছবি আবার তাঁরাই দেখবেন। সুতরাং, ছবিটিতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন থাকা দরকার। তবে সরকারি অনুদানের যে অর্থ, তাতে ছবি শেষ করা যাবে না। ছবিটি তৈরি করতে এক কোটি টাকারও বেশি দরকার হবে।’
‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবির অন্যান্য সব প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নূরুল আলম আতিক বলেন, ‘আপাতত টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়েই পরিকল্পনা চলছে। শুটিংয়ের লোকেশন নির্বাচনও শেষ হয়নি এখনো। ছবির জন্য একটি রানওয়ে দরকার আমাদের। ব্রিটিশদের পরিত্যক্ত একটি রানওয়ে থেকে ছবির গল্প শুরু হবে আবার সেখানেই শেষ হবে।’
সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগোলে ছবির শুটিং শুরু হবে সামনের বছরের জানুয়ারি মাসে। আর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা যাবে। নির্মাতাদের ইচ্ছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ছবিটি দেখানো।
আতিক জানান, তবে সেসব কেবল পরিকল্পনাই। নির্মাতার যুদ্ধটা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রযোজকের খোঁজে তৎপর হয়ে উঠেছেন তিনি। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র সঙ্গে থাকার জন্য কয়েকজন ভালো প্রযোজক পেলেই মুক্তির পথে এগোবে ছবিটি। ঐতিহাসিক একটি ছবির সঙ্গে থাকতে অনেকেই রাজি হবেন বলে মনে করছেন আতিক। এর আগে তিনি নির্মাণ করেছিলেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ডুব সাঁতার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন