সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ছবি: ফেসবুক

ধীরে ধীরে সব আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। তাঁরা অস্বাভাবিক বা দৈব কিছুর আশা করছেন। চিকিৎসাশাস্ত্রের সব চেষ্টা মোটামুটি শেষ, ২৪ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছেন না সৌমিত্র। চিকিৎসকদের ভাষায়, সৌমিত্র এখন জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়েছে।
প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি জানান, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসা দলের প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার বুলেটিনে জানান, গত ২৪ ঘণ্টা প্রবীণ এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

default-image

তাঁকে বিভিন্ন ধরনের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অরিন্দম কর বলেন, ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ভালো নেই। মনে হচ্ছে, তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য আমাদের ৪১ দিনের লড়াই যথেষ্ট নয়। আপাতত আমাদের নতুন কিছু বলার নেই। তিনি যাতে ভালো হয়ে ওঠেন, সবাইকে সেই প্রার্থনা করতে হবে।’ চিকিৎসকেরা প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন অরিন্দম কর।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার রাতে সৌমিত্রর চেতনা স্তর ৫-এ নেমে গেছে। কয়েক দিন আগেও তাঁর চেতনা স্তর ৯ থেকে ১০-এর মধ্যে ছিল। এ ঘটনার পর সৌমিত্রর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ১৬ সদস্যের চিকিৎসা দলের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গতকাল রাতে চিকিৎসা দলের প্রধান ক্রিটিক্যাল বিশেষজ্ঞ অরিন্দম কর জানিয়েছেন, এই চেতনা স্তর ৩-এ নেমে গেলে চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্রেন ডেথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এখনো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় চেতনাহীন অবস্থায় কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমের ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও তাঁকে সুস্থ করার জন্য বৃহস্পতিবার প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার তাঁর দুটি কিডনিরই ডায়ালাইসিস করা হয়।

default-image

গত ১ অক্টোবর থেকে বাড়িতে থাকাকালীন তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। শরীরে জ্বর ওঠে। তবে করোনার কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৫ অক্টোবর তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করানো হয় বেলভিউ নার্সিং হোমে। নার্সিং হোমে সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও করোনা ছাড়া তাঁর অন্যান্য রোগও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, সুগারের মতো রোগ।

default-image

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পড়াশোনা করেন হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা চলচ্চিত্রের এই দিকপাল ২০১২ সালে পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এ ছাড়া আরও পেয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ পুরস্কার (২০১৮)। পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণসহ (২০০৪) ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক একাডেমি, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0