ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। রোববার সন্ধ্যায় পর্দা নামল এ উৎসবের
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। রোববার সন্ধ্যায় পর্দা নামল এ উৎসবের

পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১৯তম । ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে উৎসবটির আয়োজন করে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ। ৯ দিনব্যাপী এ উৎসবে দেখানো হয়েছে ৭৩টি দেশের ২২৫টি ছবি। রোববার সন্ধ্যায় পর্দা নামল এ উৎসবের।

শেষ দিনে ঘোষিত হলো বিজয়ীদের নাম। এদিন বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বিশ্ববাজারে এ দেশের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা করবে। চলচ্চিত্রকে সময় ও সভ্যতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, নিশ্চয়ই করোনা নিয়েও অনেক চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। আর সেগুলো এই সময়কে, ইতিহাসকে ধরে রাখবে।
এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ফাখরুল আরেফীন খান পরিচালিত ‘গণ্ডি’ (দর্শক জরিপ) ও মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ (জুরি)। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবের ১৯তম আসরে এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হয়েছে ‘দ্য রোড টু ইডেন’। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হয়েছেন নাসিম আহমদপুর ও শারাম মোকরি (কেয়ারলেস ক্রাইম)।

বিজ্ঞাপন

একই বিভাগে শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফার হয়েছেন ওটগনজুরিগ ব্যাচুলুউন (দ্য ওম্যান)। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন মেরুইরট সুব্বুসিনোভার হাতে। সেরা অভিনেতা হয়েছেন নিজাত ইসলার (৯৭৫), সেরা পরিচালক কসেনিয়া লাগুটিনা (ফারিদা)।

default-image

‘শ্রেষ্ঠ শিশু চলচ্চিত্র বাদল রহমান পুরস্কার’ পেয়েছে রাশিয়ান ‘তাগানক টিম’। নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে স্বল্পদৈর্ঘ্যে ইরানি সিনেমা ‘তিরিশকো’র জন্য শাকিবা খালেঘির সঙ্গে একই বিভাগে স্পেশাল মেনশন পুরস্কার পেয়েছেন সুইডেনের জেসিকা লরেন (ওয়ে হোম)। এ ছাড়া এই বিভাগে শ্রেষ্ঠ তথ্যচিত্র হয়েছে ইভডোকিয়া মোসকভিনা পরিচালিত ‘ফরবিডেন চিলড্রেন’ (রাশিয়া, সিরিয়া)। সেরা নারী নির্মাতা হয়েছেন মারগারিদা পাইভা (দ্য লিটল ব্ল্যাক ড্রেস)। স্পিরিচুয়াল চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে সাইপ্রাসের মারিনোস কারতিক্কিস পরিচালিত ‘সিনিয়র সিটিজেন’। একই বিভাগে শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারি হয়েছে মেহরদাদ ওস্কৌই পরিচালিত ‘সানলেস শ্যাডো’।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ ছাড়া উৎসবের নির্বাহী কমিটির সদস্য ম. হামিদ ও উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে যুক্ত থেকে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরছে। আর্থিক সংকট ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংগঠনটি এবারের উৎসব আয়োজন থেকে পিছপা হয়নি। সে জন্য নিঃসন্দেহে সাধুবাদ তাঁদের প্রাপ্য। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজকদের আর্থিক সংকট লাঘবে কিছুটা হলেও সচেষ্ট হবে।

default-image

উৎসবের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, আছে আর থাকবে। এ ধরনের উৎসব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন