default-image

শহীদ মিনারের গা ঘেঁষে উঠে গেছে বাঁশের তৈরি মই। তাতে চড়ে মিনারে রং করছেন কয়েকজন শোভাবর্ধনকারী শ্রমিক। আর কদিন পরই একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ মিনারের রং ফেরানোর কাজ চলছে। তবে এর মধ্যেই একুশের অনুষ্ঠান শুরু করে দিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শোনা যাচ্ছিল ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটি। গতকাল সোমবার বিকেলে মঞ্চে চলছিল কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা।
দর্শকসারিতে বসে থাকা আফিফা সিদ্দিকা ও তাঁর স্বামী হাসপাতাল ঘুরে এসেছিলেন এই অনুষ্ঠান দেখতে। হাজার খানেক মানুষ বসে-দাঁড়িয়ে দেখছিলেন শিশুসংগঠন শিল্পবৃত্তের নাচ। মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে লেখা ‘ওই গাঁয়ে এক মেয়ে ছিল পরীবানু নাম’ গানের সঙ্গে রঙিন শিশুদের দলীয় নাচ দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছিল।
‘বুকের খুনে যুদ্ধ জারি/ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’ স্লোগানে ৮ ফেব্রুয়ারি এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী যখন গাইছিলেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’ তখন দর্শকসারিতে তাঁর সঙ্গে ঠোঁট মেলাচ্ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবুল হোসেন। নাতনি মুন্নুজান ও নাতি মহসিনকে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠান দেখার পর যাবেন বইমেলায়। তিনি বললেন, ‘আইয়ুব গেটকে আমরাই আসাদ গেট বানিয়েছি। তখন আমাদের স্লোগান ছিল, “লাহোরের ভাঙা বাস, ঢাকায় চলে ১২ মাস, বুড়িগঙ্গায় ফালা, নইলে আগুন জ্বালা”।’
জোটের এই অনুষ্ঠানে গান করে পঞ্চভাস্কর, বিরোহী, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, শিল্পতীর্থ। নাচ পরিবেশন করে নৃত্যলোক। ছিল কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, নাট্যধারা ও নাট্যভূমির পরিবেশনা। গান করেন সর্দার রহমত উল্যাহ, শামীম, ক্রিস্টোফার গমেজ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন