নার্ভাস পরীমনি, সিয়ামের স্বপ্নপূরণ

বিজ্ঞাপন

মুহম্মদ জাফর ইকবালের গল্পে প্রথমবার অভিনয় করতে যাচ্ছেন পরীমনি। মহরতে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কথা গিয়ে বেশ নার্ভাস দেখা গেল এই চিত্রনায়িকাকে। অন্যদিকে নায়ক সিয়াম আহমেদকে ভীষণ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। ছোটবেলায় যাঁর বই পড়ে কেঁদেছিলেন, তাঁকে ছুঁয়ে দেখতে গিয়ে বন্ধুদের ধাক্কাধাক্কিতে দলছুট হয়েছিলেন, সেই সাহিত্যিকের পাশে বসে আজ কথা বলেছেন তিনি! তাঁকে ছুঁয়েও দেখেছেন।

অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, পরীমনি ও সিয়াম আবারও একটি সিনেমায় জুটি হতে যাচ্ছেন। যদিও প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের কেউ সেটা স্বীকার করছিলেন না। অবশেষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানোর আয়োজন করেছিলেন ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির পরিচালক আবু রায়হান।

পরীমনি ও সিয়াম এর আগে অভিনয় করেছিলেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায়। এরই মধ্যে সেই ছবির শুটিং শেষ। এখন মুক্তির অপেক্ষা। অন্যদিকে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমাটি সরকারি অনুদানের। মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশু-কিশোর উপন্যাস ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ বইটি থেকে এই ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। ছবির বেশির ভাগ অংশের শুটিং হবে সুন্দরবনে। টানা ১৫ দিন সবাইকে থাকতে হবে সেখানেই।

default-image

শুটিংয়ে দেশের অনেক জায়গা গেছেন পরীমনি। এমনকি বিদেশে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। কয়েকবার পরিকল্পনা করেও শেষে সুন্দরবন যাওয়া হয়নি। শেষবার ব্যাগও গুছিয়ে রেখেছিলেন। সেবারও সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। এই ঢালিউড কন্যার সুন্দরবন ভ্রমণের স্বপ্ন এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।

সিয়ামের ব্যাপারটিও অনেকটা সে রকম। তবে সেটা সুন্দরবনবিষয়ক নয়। ছোটবেলায় স্কুলের পড়াকালে অনেক চেষ্টা করেও মুহম্মদ জাফর ইকবালকে একটু ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, প্রিয় লেখকের গল্পে নায়ক হতে যাচ্ছেন তিনি বড় পর্দায়। সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে নতুন সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’-এর মহরতে এসে পরীমনি ও সিয়াম উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব গল্প বলেন।

default-image

পরীমনি বলেন, ‘আমার দুর্ভাগ্য হয়তো, তাই সুন্দরবন যেতে পারিনি। হয়তো ভাগ্যে লেখা ছিল, এই ছবিটা করতে সুন্দরবন যাওয়া হবে। এই ছবিতে অনেক শিশুশিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে হবে আমাকে। আমি নিজেও বাচ্চা। বাচ্চাদের সঙ্গে কাজ করাটা আমি ভীষণ উপভোগ করব।’

‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিংয়ে শিশুশিল্পী ও অন্য চরিত্রের শিল্পীদের নিয়ে কর্মশালা করেছেন পরিচালক আবু রায়হান। সেখানে থাকতে পারেননি সিয়াম। বিগত ৪৮ দিন টানা শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। একই বাড়িতে থাকলেও শেষ ১৫ দিন মা–বাবার সঙ্গেও কথা হয়নি। আজ মহরতেও এসেছেন নারায়ণগঞ্জে ‘শান’ ছবির শুটিং স্পট থেকে। লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করে সিয়াম বলেন, ‘ছোটবেলায় বইমেলায় যেতাম। বাবাও আমাকে অনেক বই কিনে দিতেন। একটা বই কেনার পর আমি বাসার বাইরে স্কুলেও লুকিয়ে পড়তাম। জীবনে প্রথমবার কোনো বই পড়ে কেঁদেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আর কখনো হবে কি না, জানি না। “আমি তপু” নামের সেই বইয়ের লেখক জাফর ইকবাল স্যার। একদিন শুনতে পেলাম, আমাদের সবাইকে স্কুল থেকে সায়েন্স ফেয়ারে নেওয়া হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্যার। আমার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল “আমি তপু” বইয়ের লেখককে একবার দেখব। কারণ, তাঁর লেখা আমাকে কয়েকবার কাঁদিয়েছে। সায়েন্স ফেয়ারে স্যার আসার পর সবার হুড়োহুড়িতে অনেক বাচ্চার পেছনে পড়ে গেলাম। গল্পটা বলার কারণ হচ্ছে, জীবনে যে যা–ই বলুক, তুমি পারবে, তুমি পারবে না। আমার কথা হচ্ছে, তুমি যদি চাও, স্বপ্ন আসলে পূরণ হবেই। যে বাচ্চাটা সেদিন সায়েন্স ফেয়ারে স্যারকে ছুঁয়ে দেখার জন্য কাঁদছিল, আজ সে স্যারের পাশে বসার সুযোগ পাচ্ছে। শুধু তা–ই নয়, জাফর ইকবাল স্যারের গল্পে কাজ করার সুযোগও পেল।’

সরকারি অনুদানের এই ছবির সহপ্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিডি। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রে যখন মৌলিক গল্পের তীব্র সংকট, তখন মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো জনপ্রিয় ও দেশবরেণ্য একজন সাহিত্যিকের উপন্যাস থেকে নির্মিত সিনেমার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা আনন্দিত। একই সঙ্গে সরকারি অনুদানের এই ছবিতে সহপ্রযোজক হিসেবে থাকাটাও অনেক গর্বের। আমরা আশ্বস্ত করতে পারি, এটি একটি সুন্দর সিনেমা হতে যাচ্ছে।’

default-image

পরিচালক আবু রায়হান জানান, আগামী ১৩ মার্চ ছবিটির শুটিং শুরু করবেন। ঢাকা, মোংলা, সুন্দরবন, চাঁদপুর ও বরিশালের নদীপথে এই ছবির বেশির ভাগ অংশের শুটিং হবে। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শিশুশিল্পী নির্বাচন করতে অভিনয়শিল্পী আশীষ খন্দকারকে নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। ছবিটির জন্য গানও লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন