কিশোরী বয়সের ভালো লাগা থেকে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো থাকলেও ছবি আঁকার নেশা আর নেই
কিশোরী বয়সের ভালো লাগা থেকে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো থাকলেও ছবি আঁকার নেশা আর নেই

এক থেকে দেড় টাকা দামের ভিউকার্ড কিনে কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, ববিতা, সুচিত্রা সেন, এলিজাবেথ টেলর, শ্রীদেবী, হেমা মালিনী, জয়া ভাদুড়ী, পুনাম ধীলন, দীপ্তি নাভাল, রেখা, স্মিতা পাতিলসহ বিভিন্ন নায়িকা ও অভিনয়শিল্পীর ছবি আঁকতেন সাবিনা সুলতানা। সেই আশির দশকে কিশোরী সাবিনার এসব ছবি আঁকার ‘ক্যানভাস’ ছিল স্কুলের সাদা খাতা।
সাবিনা সুলতানা এখন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল কার্যক্রমের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম অফিসার। কিশোরী বয়সের ভালো লাগা থেকে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো থাকলেও ছবি আঁকার নেশা আর নেই। স্কুলজীবনের পর আর সেভাবে রং–তুলিও ধরেননি। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লকডাউনে, বাসা থেকে অফিস করার সময় সাবিনা দেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কেউ নিজের রান্নার ছবি দিচ্ছেন, কেউ ছবি এঁকে তা সবার সঙ্গে শেয়ার করছেন। ফেসবুকে সবার প্রতিভা দেখে নিজেরও কিছু শেয়ার করতে মন চায় তাঁর।

default-image

সাবিনা সুলতানা জানালেন, বন্ধুদের কেউ কেউ ছবিগুলোর কথা মনে করিয়ে দেন। কিন্তু এই বয়সে নায়িকাদের ছবি, তাও কিশোরী বয়সে আঁকা ছবিগুলো শেয়ার করতে বেশ ইতস্তত বোধ করেন তিনি। একসময় শেয়ার করেই ফেলেন।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক গ্রুপ পেনসিলে দু–একটি ছবি শেয়ার করেন। এ গ্রুপের সদস্যদের অনেকেই ছবিগুলোর বেশ প্রশংসা করেন। সাবিনা এখন নিজেই অবাক হন এটা ভেবে যে কিশোরী বয়সে ছবিগুলো কীভাবে এঁকেছিলেন! সাবিনা জানালেন, তাঁর এক চোখে বেশ জটিলতা হচ্ছে। আর ছবি আঁকা অনেক ধৈর্যের বিষয় যা, তিনি চাইলেও এখন আর করতে পারবেন না।

কিশোরী বয়সের ভালো লাগা থেকে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো থাকলেও ছবি আঁকার নেশা আর নেই। স্কুলজীবনের পর আর সেভাবে রং–তুলিও ধরেননি।
default-image

সাবিনার এক বোন এবং ভাই ছবি আঁকতেন। ভাই ও বোনের ছোট ছিলেন তিনি। ভাইবোনদের দেখে তিনিও স্কুল থেকে ফিরে রং–পেনসিল নিয়ে বসে পড়তেন। কিন্তু তখন ছবি আঁকার তেমন সুযোগ ছিল না। নিজের ভালো লাগা এবং যে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীদের ভালো লাগত, তাঁদের ছবিগুলোই আঁকতেন।

default-image
সাবিনা এখন নিজেই অবাক হন এটা ভেবে যে কিশোরী বয়সে ছবিগুলো কীভাবে এঁকেছিলেন

আবার নিজের পড়াশোনা, সংসার, চাকরি—সব মিলিয়ে ছবি আঁকার কথা ভুলেও গিয়েছিলেন। সাবিনা বললেন, যে নায়িকা বা অভিনয়শিল্পীর চোখ ও হাসি সুন্দর, তাঁদের ছবিই বেশি আঁকতেন তিনি।

default-image

নায়িকার চোখের ভাষা ফুটিয়ে তুলতে স্কুলের খাতার পাতা ভরিয়ে ফেলতেন। এ নিয়ে মায়ের বকুনিও খেতে হতো। হাসতে হাসতে সাবিনা বলেন, ‘এক হেমা মালিনীর চোখ ঠিক করতে গিয়ে খাতার কত পাতায় যে তাঁকে এঁকেছি, তার কোনো ঠিক নেই। তাই এই নায়িকার ছবিও বেশি আঁকা হয়েছে।’

default-image

স্কুলের খাতার সেই ছবিগুলো সাবিনার মা যত্ন করে রেখেছিলেন। ২০০৮ সালের দিকে সাবিনা ছবিগুলো স্ক্যান করে রেখেছিলেন। বললেন, ‘এখন ফেসবুকে কেউ ওই ছবিগুলোর প্রশংসা করলে মনে হয়, আঁকাটা চালিয়ে গেলেই পারতাম।’

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন