default-image

পত্রিকায় প্রকাশিত দুঃসংবাদ পড়ে ক্ষুব্ধ শিল্পী বসে পড়তেন ক্যানভাসে। এঁকে রাখতেন নিজের রাগ, ক্ষোভ আর বেদনাবোধ। দেয়ালের শোভা বাড়ানোর বদলে সেসব চিত্রকর্মের বিষয়বস্তু ছিল পীড়াদায়ক। সে কারণে ছবিগুলো ঘর থেকে তিনি বের করতেন কম। এখন সেগুলোকে একত্র করার সময় হয়েছে। এতে যদি কিছু বার্তা দেওয়া যায় তরুণ প্রজন্মকে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে শুরু হয়েছে শিল্পী নিসার হোসেনের একক রেট্রোস্পেকটিভ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'ষাট বছরের খতিয়ান।' প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে গত ৪৪ বছরে আঁকা শিল্পীর ৮০টির বেশি চিত্রকর্ম। শিল্পীর তৃতীয় একক প্রদর্শনী এটি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া প্রথম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মানুষের সংগ্রহে থাকা নিজের কিছু ছবি চেয়ে এনেছেন প্রদর্শনীর জন্য। নিজের সব কটি কাজ একত্র করে দেখার ইচ্ছা, যা কখনোই করা হয়নি। তিনি বলেন, 'এ প্রদর্শনী আমাকে বুঝতেও সহযোগিতা করবে চিত্ররসিকদের।'

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। বরেণ্য চিত্রকর রফিকুন নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন ও শিল্পানুরাগী কাজী আনিসুল মুকিত। সভাপতির বক্তব্যে রফিকুন নবী বলেন, 'এই প্রদর্শনীতে আদি থেকে নিসারের সব ধরনের কাজ আছে। ছবিগুলোতে নিসারকেই খুঁজে পাওয়া যায়। নিসার প্রদর্শনী কম করে। এ ক্ষেত্রে তাঁকে তুলনা করা যায় বড় শিল্পীদের সঙ্গে। আবেদিন স্যার, সফিউদ্দিন স্যার বা কিবরিয়া স্যারকে একক প্রদর্শনী করার ব্যাপারে রাজি করানো যেত না। নিসারও অনেকটা সে রকম। আমার আহ্বান চারুকলার ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সে যেন ছবি আঁকা থামিয়ে না দেয়।'

default-image

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'নিসারের বাবা এমদাদ ভাই আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরু ছিলেন। নিসার যে চিন্তা, দর্শন ও প্রগতিশীলতা ধারণ করে, মানুষ ও দেশ নিয়ে যা লালন করে, এসব সে পেয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর চিন্তা আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হয়েছে, কিন্তু এসবের শিকড়ে ছিলেন এমদাদ হোসেন, বঙ্গবন্ধু, ছিল ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধ।'
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, বহু বছর পর গ্যালারি চিত্রক ফিরেছে তাঁর পুরোনো ঠিকানা—ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কের ২১/এ বাড়িতে। নবনির্মিত সেই ভবনের দোতলায় শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদের সংগ্রহশালা, তৃতীয় তলায় গ্যালারি চিত্রক, যা নবযাত্রা শুরু করল নিসার হোসেনের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

আজ ২০ ফেব্রুয়ারি নিসার হোসেনের জন্মদিন। ৬০ পেরিয়ে ৬১ বছরে পা রাখলেন তিনি। এ উপলক্ষে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাটা হয় কেক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ শিল্পী ও শিল্পানুরাগীরা। উপস্থিত ছিলেন হামিদুজ্জামান খান, আবুল বারক আলভী, মোহাম্মদ ইউনুস, শহিদ কবীর, শেখ আফজাল হোসেন, জামাল আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য, সাংসদ অসীম কুমার উকিল, স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ প্রমুখ। এই প্রদর্শনী চলবে মাসব্যাপী। চিত্রক খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আয়োজকেরা জানান মার্চে শিল্পী সফিউদ্দিনের সংগ্রহশালার উদ্বোধন হবে। নিসারের ছবি নিয়ে যাঁরা লিখেছেন, সেসবের সংকলনও প্রকাশিত হবে শিগগিরই।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন