default-image

‘গাছ’ শব্দটা শুনলে চোখের সামনে বিশাল কিছু একটা ভাসে। যতটা সম্ভব আকাশের দিকে উঠে যাওয়া। কিন্তু বনসাই অন্যান্য গাছের চেয়ে কিছুটা আলাদা প্রকৃতির। এই গাছ লম্বায় অনেক ছোট হয়। বনসাই শিল্পের প্রচলন চীনে হলেও এই শিল্প এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নান্দনিক শিল্পকর্ম হিসেবে। কে এম সবুজ এই শিল্পের তেমনি একজন নিখুঁত কারিগর। ২৪ বছর ধরে বনসাই নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তাঁর যত্নে টিকে থাকা বেশ কিছু বিরল প্রজাতির বনসাই শিল্পকর্ম নিয়ে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে নান্দনিক বনসাই প্রদর্শনী।
শুক্রবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। এ সময় বনসাই শিল্পী কে এম সবুজ ও তাঁর প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান লিভিং আর্টের চেয়ারপারসন সালমা শিরীন উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষপ্রেমীদের কাছে বনসাই শিল্পের নান্দনিকতা তুলে ধরতে গত বছরের ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা লিভিং আর্টের উদ্যোগে।
শুক্রবার প্রদর্শনীর দ্বার উন্মোচন হতেই আসতে থাকেন বনসাইপ্রেমীরা। ছোট পরিসরে প্রকৃতিকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হারাতে চাননি কেউ কেউ। কেউ কিনতে এসেছেন। আবার কেউ ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন বনসাইয়ের সৌন্দর্য। তাই ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছুটে এসেছিলেন কেউ কেউ। বিস্ময়ভরা চোখ নিয়ে উপভোগ করেছেন বনসাইয়ের বিচিত্র রূপ-সৌন্দর্য।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বললেন, ‘গাছের চেয়ে বড় বন্ধু হয় না। যত গাছ তত সবুজ। ততটাই সুন্দর বেঁচে থাকা।’ তিনি বলেন, জায়গা কম হওয়ায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ সব সময় সম্ভব হয় না। ঠিক সে জায়গা থেকে দেখলে বনসাইয়ের অবদান স্বীকার করতে হয়। 
ছোট বনসাইয়ের যেমন আছে বড়র বিশালতা, তেমনি আছে সৌন্দর্যের গভীরতা। এমন ভাব ও ভাষায় প্রকৃতি খোঁজার এই শৈল্পিক চর্চায় প্রদর্শনীতে এসে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চিত্রশিল্পী মুনিরুল ইসলাম।

default-image

এই শিল্পের চর্চায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন বনসাই শিল্পী কে এম সবুজ। বললেন, ‘বনসাইয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটা জায়গা নেয় খুব কম। আকার, বৈশিষ্ট্য ও বয়সের ওপর ভিত্তি করেই এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। তিনি দাবি করলেন, এই প্রদর্শনীতে এমন কিছু বনসাই রয়েছে, যা আগে কেউ দেখেননি।
ছোট-বড় ৩০০টি বনসাই দিয়ে প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে। দুটি কক্ষজুড়ে সারিবদ্ধ করে রাখা শুধু বনসাই আর বনসাই। যেন একটু সবুজ বনভূমি। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে বট, পাকুড়, চায়না বট, আম বট, অশ্বত্থ, গোল্ডেন পান্ডা, যগ ডুমুর, জিলাপি, ছাতিম, নিসিন্দা, বাগানবিলাস, কামিনী, হাসনাহেনা, হিজল, তমাল, বক্স উড, পাইন, থাইকামিনী, লাইলি মজনু, কৈলাস, তালসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৮০ প্রজাতি। দাম পড়বে দুই হাজার থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে ল্যান্ডস্কেপ জাতীয় বনসাইয়ের দাম পড়বে ৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। সবচেয়ে দামি বনসাই বটজাতীয় আম বটের। ৩০ বছরও বেশি পুরোনো এই বনসাইটি আনা হয়েছে সিলেট থেকে। এর দাম তিন লাখ টাকা।

default-image

সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী রোববার। আর প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন