বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় এনসিবির সঙ্গে থাকা দুজন লোককে নিয়েও। তাঁদের দাবি, এঁদের একজন বিজেপির সদস্য। এমন প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বলছে, এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। যদি তাই হতো, তাহলে আদালত বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের জামিন মঞ্জুর করতেন। ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোও বলছে, এমন দাবি ভিত্তিহীন। গত শনিবার গোয়ামুখী একটি প্রমোদতরি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযানের পর এখন পর্যন্ত আরিয়ান খানসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

এ অভিযানকে নাটক হিসেবে দেখছেন এনসিপি মুখপাত্র নবাব মালিক। মহারাষ্ট্র মাইনরিটিজ অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার বলেন, ‘এই অভিযান ছিল ভুয়া। প্রমোদতরিতে তাঁরা কোনো মাদক পায়নি।’ তিনি অভিযানকেন্দ্রিক কথিত কতগুলো ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এনসিপির ওই নেতার অভিযোগ, একটি ভিডিওতে আরিয়ান খানকে নিয়ে আসার সময় গোসাভি নামের একজনকে দেখা গেছে, যিনি এনসিবির কর্মকর্তা নন। লোকটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল বলছে, তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরভিত্তিক প্রাইভেট ডিটেকটিভ।

default-image

মালিক আরেকটি ভিডিওর উল্লেখ করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, আরবাজ মার্চেন্টকে নিয়ে যাচ্ছেন দুজন লোক, তাঁদের একজন বিজেপি সদস্য। এই নেতার প্রশ্ন, যদি তাঁরা এনসিবির কর্মকর্তা না হন, তাহলে তাঁরা কেন এই গুরুত্বপূর্ণ দুজন মানুষকে (আরিয়ান খান ও আরবাজ মার্চেন্ট) ধরে আনেন।’ মালিকের দাবি, মার্চেন্টের সঙ্গে যে ব্যক্তিকে দেখা গেছে, তিনি ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাটে ছিলেন। গুজরাটের মুন্ড্রা বন্দরে তিন হাজার কেজি হেরোইন জব্দ করার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকতে পারে। এনসিপির এই নেতা বিজেপির কাছে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করার দাবি জানান।

default-image

নবাব মালিক বলেন, ‘বিজেপি পুরো এনসিবিকে মহারাষ্ট্র সরকার ও বলিউডকে অপমান করার জন্য ব্যবহার করছে।’ অভিযোগ আছে, এই গেরুয়া পার্টির বিরুদ্ধে যে-ই গেছে, তাকেই টার্গেট করেছিল অ্যান্টি ড্রাগ এজেন্সি। বলে রাখা ভালো, মালিকের জামাতা সমির খানকে মাদক মামলায় গত ১৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে এনসিবি। সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি জামিন পেয়ে যান। এক বিবৃতিতে এনসিবির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল জ্ঞানেশ্বর সিং জানান, এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘কিছু অভিযোগ’ ছিল ভিত্তিহীন। এসব অভিযোগ আগের কোনো আইনি পদক্ষেপের কারণে ক্ষোভ থেকে করা হতে পারে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এজেন্সির এই অভিযান পেশাদারত্ব এবং আইনসংগতভাবে চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এনসিবি বলছে, ‘প্রভাকর সেল, কিরণ গোসাভি, মানিশ ভানুশালি, অব্রে গোমেজ, আদিল উসমানি, ভি ওয়াইগঙ্কার, অপর্ণা রেনে, প্রকাশ বাহাদুর, শোয়াইব ফাইজ ও মুজাম্মিল ইব্রাহিম এনসিবির সঙ্গে একজন স্বাধীন সাক্ষী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।’

নবাব মালিকের অভিযোগের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজেপি সাংসদ অতুল ভটখলকর জানান, লকডাউনের সময়ে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার প্রথম মদের দোকান খুলেছিল। আর এখন নবাব মালিক এনসিবিকে ড্রাগ লর্ড হিসেবে অভিযুক্ত করছে। তিনি আরও জানান, যখন আরিয়ান খানকে আদালতে ওঠানো হয়, তখন তাঁকে একজন সিনিয়র ক্রিমিনাল আইনজীবীই প্রতিনিধিত্ব করেন।

‘আত্মপক্ষ সমর্থন করা সত্ত্বেও কোর্ট আরিয়ান খানকে এনসিবির কাস্টডিতে কেন পাঠিয়েছে? তাঁর কারণ হলো, তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ আছে। যদি কোনো প্রমাণ না থাকত, তাহলে দ্রুতই তাঁর জামিন হতো’, বিজেপি নেতার বক্তব্য। তিনি আরও যোগ করেন, মালিকের অভিযোগ আদালতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এই বিজেপি নেতার প্রশ্ন, জামাইয়ের আদেশ হিসেবেই কি এনসিবিকে টার্গেট করেছিলেন মালিক।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন