default-image

২০১৪ সালে সাংবাদিক হিসেবে কান উৎসবে আসার সুযোগ হয়েছিল প্রথম। পৃথিবীতে এত চলচ্চিত্র উৎসব থাকতে কেন এই কানযাত্রা? সেই প্রশ্নও তখন করেছিলেন কেউ কেউ। আজ চার বছর পর আনন্দের সঙ্গে দেখছি, বাংলাদেশ ক্রমেই সরব হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্রের এই মহা মিলনমেলায়।
২০১৪ সালে শুধু প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। আর এবার, পত্রিকা ও ওয়েব মিডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক টেলিভিশনও শামিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহা মিলনমেলায়। ৭০তম পর্বে যতবারই সিনেমা বাজারে (মার্শ দু ফিল্মে) যাচ্ছি, কোনো না কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা হয়েই যাচ্ছে। নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আবু সায়ীদ, সামিয়া জামান, চলচ্চিত্র সমালোচক জাকির হোসেন রাজু, স্টার সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা মাহবুবুর রহমান—এমন অনেক বাংলাদেশি মুখ। অথচ তিন বছর আগেও এই দৃশ্য ছিল অভাবনীয়। বাংলাদেশিরা যে এখন কান উৎসবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয়, সেটা আর আলাদা করে বলে দিতে হয় না।
কান-ভেনিস-বার্লিন—এই হচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সেরা তিন নাম। ভেনিসে যাওয়া হয়নি। ইউরোপের আরেক নামী উৎসব বার্লিনে গেছি গেল ফেব্রুয়ারিতে। আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় মনে হয়, কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু সব দিক মিলিয়ে কানের মতো বড়, সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী কোনো চলচ্চিত্র উৎসব আসলে এই মুহূর্তে পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।
এবার বিচারক হয়ে কানে আসা হলিউডের অভিনেতা উইল স্মিথ যেমন বলেছেন, ‘কান ইজ দ্য আল্টিমেট প্রেস্টিজ।’

default-image

‘ঢাকা টু কান’
রোদ ঝলমল করছে কান সমুদ্রসৈকতে। রোদের এই তেজ দেখে কে বলবে সময় বিকেল পাঁচটা? কান শহরের সুবিখ্যাত ‘লা কোয়াজেত’ ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে সারি সারি হোটেল আর রেস্তোরাঁ। অদূরে কান উৎসবের প্রাণকেন্দ্র প্যালে দো ফেস্টিভালে শুধু ব্যাজধারীদের প্রবেশাধিকার। আর লা কোয়াজেত অথবা সৈকত বেয়ে চওড়া যে রাস্তা সোজা চলে গেছে দূরে, সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কান চলচ্চিত্র উৎসবের সময়ে এই রাস্তার দুই পাশ জমে ওঠে নানাবিধ আয়োজনে। ১৯ মে সে রকমই একটি আয়োজন হয়ে গেল বাংলাদেশিদের উদ্যোগে।
মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা দুজন নির্মাতাকে কান উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জিং ফিল্ম ট্যালেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ‘ঢাকা টু কান’ শিরোনামের এই আয়োজন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই নির্মাতা লুবনা শারমিন ও আবিদ মল্লিক সুযোগ পেয়েছেন কানের সিনেমা বাজারের (মার্শ দু ফিল্ম) প্রডিউসারস নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণের।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে এবার বাংলাদেশের অর্জন নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমনের লা’তেলিয়ে-তে আমন্ত্রণ। আর বাংলাদেশি সিনেমা বলতে আছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে দাগ ও ঢাকা ২.০০ নামের দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি।
তবু ‘ঢাকা টু কান’ শিরোনামের আয়োজনের প্রশংসা করতে হয়। এভাবেই একদিন বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নিশ্চয়ই জায়গা করে নেবে কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে। তারেক মাসুদের মাটির ময়না কানের সমান্তরাল বিভাগ ডিরেক্টরস’ ফোর্টনাইটে দেখানো হয় ২০০২ সালে। পায় ফিপরেসকি পুরস্কার। তারপরও তো অনেক দিন কেটে গেছে। কিন্তু আমাদের নির্মাতারা তারেক মাসুদের দেখানো পথেই আছেন। সেটাই আশার।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন