default-image

কাজ নিয়ে বেশির ভাগ সময়ই প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হয় বলিউডের তারকাদের। এ জন্য তাঁদের ফোন করলে কিংবা এসএমএস পাঠালে প্রায়ই হয়তো জবাব মেলে না। তাত্ক্ষণিকভাবে সম্ভব না হলেও তাঁদের অনেকে দেরিতে হলেও জবাব দেন ঠিকই। এ জবাব পাঠানোরও রয়েছে অদ্ভুত নানা ধরন। আবার এমন অনেক তারকাও আছেন, যাঁদের ফোনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠালেও ধন্যবাদ জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না তাঁরা। ফোনের কলার টিউন কিংবা নম্বর নিয়েও অদ্ভুত নানা খেয়াল কাজ করে বলিউডের তারকাদের মধ্যে। সম্প্রতি তাঁদের দূরালাপনী আচার-আচরণ নিয়ে চমকপ্রদ কিছু হাঁড়ির খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
‘সিং সাব দ্য গ্রেট’ ছবির মাধ্যমে গত বছর বলিউডে পা রেখেছেন মডেল ও মিস টিন ইন্ডিয়া খেতাব পাওয়া উর্বশী রাতেলা। তাঁর ফোনের কলার টিউনটি বেশ অদ্ভুত। তাঁকে ফোন দিলেই শোনা যাবে, ‘আপনি যে নম্বরে ফোন দিয়েছেন এটা একটা ভিআইপি নম্বর। আপনার ফোন কলটিকে নজরদারি করা হতে পারে। তাই কোনো কিছু বলার আগে সতর্কতার সঙ্গে শব্দ চয়ন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’ সম্ভবত আজেবাজে ফোন কলের হ্যাপা থেকে রেহাই পেতেই এমন পন্থা বেছে নিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এ সুন্দরী।
কয়েক বছর আগে বাঙালি বংশোদ্ভূত বলিউডের অভিনেত্রী বিপাশা বাসুও অদ্ভুত একটি কলার টিউন ব্যবহার করতেন। তাঁকে ফোন দিলেই শোনা যেত, ‘হ্যালো, হ্যালো...আমি আপনার কথা ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছি না। একটু উচ্চস্বরে কথা বলবেন কি!’ তাঁর কলার টিউন শুনলেই মনে হতো, তিনি যেন ফোন দেওয়া ব্যক্তিটির খুব কাছেই আছেন।

ফোনে শিষ্টাচারের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘বলিউড শাহেনশা’ অমিতাভ বচ্চন। তাঁকে ফোন দিলে নিশ্চিতভাবেই জবাব মিলবে। সঙ্গে সঙ্গে না হলেও, দুই-একদিনের মধ্যে ঠিকই তিনি কলব্যাক করেন কিংবা ফিরতি এসএমএস পাঠান। কিন্তু ঠিক তাঁর উল্টো স্বভাব তাঁরই ছেলের বউ, সাবেক বিশ্ব সুন্দরী ও বলিউডের অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের। অ্যাশের মধ্যে একধরনের হামবড়া ভাব রয়েছে। কখনোই তিনি ফোনের জবাব দেন না। এমনকি কেউ তাঁর ফোনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেও চুপ থাকেন তিনি।

ফোনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখ খানের অদ্ভুত এক বাতিক রয়েছে। প্রচণ্ড প্রয়োজন থাকলেও শাহরুখকে ফোন দিয়ে কোনো লাভ নেই। নিশ্চিতভাবেই সেটার জবাব আসবে না তাঁর কাছ থেকে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর হয়তো দারুণ একটি এসএমএস পাঠাবেন তিনি। সেখানে লেখা চমত্কার বার্তা পড়ে হাসি ফুটে উঠবে ফোন দেওয়া ব্যক্তিটির মুখে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বরাবরই মধ্যরাতের পর ফিরতি এসএমএস পাঠান কিং খান। এ ছাড়া সংখ্যার ওপর সৌভাগ্য নির্ভর করে—দৃঢ়ভাবে এমনটা বিশ্বাস করেন শাহরুখ। শুধু বিশ্বাসই করেন না, অন্ধের মতো তা মেনেও চলেন। ‘৫৫৫’ এবং ‘৪০’ সংখ্যার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে শাহরুখের। সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে তাঁর এ কুসংস্কারের মাত্রা এতটাই প্রবল যে, নিজের পাশাপাশি কাছের মানুষদের মোবাইল নম্বরেও এই সংখ্যাগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন তিনি। স্ত্রী গৌরী খান, ঘনিষ্ঠ বন্ধু করুণা বড়াল থেকে শুরু করে শাহরুখের অফিসের ৮০ জন কর্মচারীর সবার মোবাইল নম্বরেই ‘৫৫৫’ এবং ‘৪০’ সংখ্যাগুলো রাখা হয়েছে। শাহরুখের ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানায় এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরেও ‘৫৫৫’ সংখ্যাগুলোর উপস্থিতি রয়েছে।

অন্যদিকে মোবাইল ফোন নম্বরে ‘৭৮৬’ সংখ্যাগুলো যুক্ত করেছেন সায়রা বানু, টাবু, এ আর রহমান এবং ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা। বলিউডের সফল তারকা দম্পতি ঋষি কাপুর ও নিতু কাপুর তাঁদের মোবাইল ফোন নম্বরেও নিজেদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। শুধু একটি সংখ্যা বাদে দুজনের ফোন নম্বর একই। এ ছাড়া বলিউডের অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের পরিবারের সবার মোবাইল ফোন নম্বরেই ‘৭৭৭’ সংখ্যাগুলো ঠাঁই পেয়েছে।

অমিতাভ বচ্চনের মতো ক্যাটরিনা কাইফও এসএমএস কিংবা ফোনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সিরিয়াস। কাজের ব্যস্ততার কারণে তত্ক্ষণাত্ জবাব দিতে ব্যর্থ হলেও সময় বের করে ঠিকই তিনি জবাব দেন। এমনকি যুক্তরাজ্য, লাস ভেগাস কিংবা বিশ্বের যে প্রান্তেই তিনি থাকুন না কেন কখনোই ফোন দেওয়া ব্যক্তিটিকে নিরাশ করেন না তিনি।

টোল পড়া গাল আর মিষ্টি হাসির জন্য সুপরিচিত একের পর এক বক্স অফিসে ঝড় তোলা ছবি উপহার দেওয়া তুমুল জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কখনোই নিরাশ হতে হয় না কাউকে। শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও এসএমএসের মাধ্যমে অন্তত একটি স্মাইলি ঠিকই পাঠিয়ে দেন তিনি। অন্যদিকে ‘রাম-লীলা’ ছবিতে দীপিকার সঙ্গে অভিনয়ের আগ পর্যন্ত বরাবরই ফোনের জবাব দিতেন রণবীর সিং। কিন্তু ইদানীং তাঁর সেই অভ্যাসে ভাটা পড়েছে। দীপিকার সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়ানোর পর এখন প্রিয়তমার ফোন কল কিংবা এসএমএসের জবাব নিয়মিত দিলেও অন্যদের বেশির ভাগ সময়ই ঝুলিয়ে রাখছেন রণবীর।

সাবেক বিশ্বসুন্দরী, বলিউডের অভিনেত্রী ও গায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বরাবরই তাঁর ফিরতি এসএমএসে তাঁর বর্তমান অবস্থান, মনের অবস্থাসহ সুন্দর সুন্দর নানা বার্তা পাঠিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। এ ছাড়া সব সময় ফোন কল এবং এসএমএসের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ তারকা আমির খান ও তাঁর স্ত্রী কিরণ রাও। একই অভ্যাস রয়েছে বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী নির্মাতা করণ জোহরেরও। তবে খুব বেশি অপ্রীতিকর বিষয় হলে এড়িয়ে যান তিনি।

স্মার্টফোনের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা রয়েছে ‘হিরোইন’ তারকা কারিনা কাপুর খানের। নিজের স্মার্টফোন থেকে খুব বেশি সময় দূরে থাকতে পারেন না তিনি। অন্যদিকে, কারিনার স্বামী পতৌদির নবাব ও বলিউডের অভিনেতা সাইফ আলী খান তাঁর নাক উঁচু স্বভাবের কারণে দুর্নাম কুড়িয়েছেন। সামনাসামনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেও ফোনালাপের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সৌজন্যবোধও নেই তাঁর ভেতর। বলিউডের কারও নামই নেই তাঁর মোবাইলের ফোন বুকে। কেবলমাত্র কাছের বন্ধুদের ফোনের জবাবই তিনি দেন।

ফোনকল কিংবা এসএমএসের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে নাক সিটকানো ভাব রয়েছে বলিউডের তারকা দম্পতি অজয় দেবগন ও কাজলের মধ্যেও। বিশেষ করে বাসায় থাকলে কখনোই ফোন ধরেন না অজয়। তাঁর মতো কাজলও কে ফোন দিল না দিল তা নিয়ে একদমই মাথা ঘামান না। অন্যদিকে, বরাবরই তত্ক্ষণাত্ ফোন কিংবা এসএমএসের জবাব দেওয়ার স্বভাবের কারণে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘খিলাড়ি’ তারকা অক্ষয় কুমার। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি প্রতিটি ফোনকল এবং এসএমএসের জবাব দেন। ফোনে তাঁর এমন শিষ্টাচার যথেষ্ট শিক্ষণীয়ই বটে।   

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন