default-image

ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে চলে গেলেন প্লেব্যাক-সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। চলচ্চিত্রের গানে তাঁর অভিষেক সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খানের হাত ধরে মেইল ট্রেন ছবির মাধ্যমে। প্রথম আলোর কাছে প্রিয় অনুজের স্মৃতি মেলে ধরলেন আলম খান

আপনার শরীর এখন কেমন?
কয়েক দিন ধরে জ্বর। এই আসে, এই যায়। আজ (মঙ্গলবার) কিছুটা ভালো।

এন্ড্রু কিশোর অনেক দিন অসুস্থ ছিলেন। আপনার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল?
সিঙ্গাপুরে থাকাকালে কথা হয়েছে। খবর নিতাম। দেশে ফেরার পরও কথা হয়েছে। রাজশাহী যাওয়ার পর একাধিকবার কথা হয়েছে। শুনলাম, পরিবারের বাইরে আমার সঙ্গেই সর্বশেষ কথা বলেছিল।

কী কথা হয়েছিল সেদিন?
খুব বেশি কথা নয়। অসুস্থতার কারণে এমনিতে এন্ড্রুর অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমাকে বলল, শরীরটা বেশি ভালো না ভাই। দোয়া কইরেন, যেন সুন্দরভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে পারি।

তাঁর প্রয়াণ দেশের সংগীতাঙ্গনে কেমন শূন্যতা তৈরি করল?
এন্ড্রু বাংলাদেশের সংগীতের একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর এই চলে যাওয়ায় একটা বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল। এটা কোনো দিন পূরণ হবে কি না, আমার জানা নেই। তবে হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হয়।

কেমন সম্পর্ক ছিল আপনাদের?
সে আমার পরিবারের সদস্যের মতোই ছিল। পরিবারের সবার সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক ছিল। সে আমার সন্তানের মতো, ছোট ভাইয়ের মতো। মনে হচ্ছে, বাবার কাঁধে ছেলের লাশ নেওয়ার মতো বেদনা। এ ভীষণ কষ্টের, এ কষ্ট বোঝাতে পারব না। কী এমন বয়স হয়েছে যে আমার আগে চলে গেল।

default-image

অনেক শিল্পীই আপনার সুর ও সংগীত পরিচালনায় গেয়েছেন। আপনার চোখে এন্ড্রু কিশোর কোথায় আলাদা ছিলেন?
এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠস্বর ছিল সবার চেয়ে আলাদা। তাঁর কণ্ঠের আলাদা স্টাইল ছিল, যা একেবারে ইউনিক। সব ধরনের গানে সে নিজেকে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারত। সব ধরনের গান সে গাইতেও পারত অসাধারণভাবে। এটাই কিশোরের বৈশিষ্ট্য।

মানুষ হিসেবে তাঁকে আপনি কীভাবে দেখেন?
অনেক ভালো, অসাধারণ মানুষ। একজন পরিপূর্ণ মানুষের যেসব গুণ থাকা দরকার, সব দিক থেকে সিদ্ধ ছিল এন্ড্রু। আমি তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার দেখিনি। মুরব্বিদের সম্মান করত; ছোটদের আদর করত, পরামর্শ ও উপদেশ দিত। এত বড় শিল্পী হয়েও সবার সঙ্গে খুব বিনয়ী ছিল।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন